• কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও পরাগলী মহাভারত: - বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন ‘পরাগলী মহাভারতের' লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। - গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৮) সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত। - বাংলা ভাষা সাহিত্যের পুনরভ্যূদয়ের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হুসেন শাহ চট্টগ্রাম জয় করে সেখানে পরাগল খাঁকে শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। - পরাগল খাঁ মহাভারতের কৌতূহলোদ্দীপক যুদ্ধকাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শোনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে নির্দেশ দেন। - মূল মহাভারত কাব্যের সাহিত্য-রস আস্বাদনের আগ্রহের চেয়ে যুদ্ধকাহিনির উত্তেজক উপাদান প্রেরণা দান করেছিল বলে ধারণা করা হয়। - মহাভারত মুখ্যত রাজবংশের ইতিহাস বলে শাসকদের কাছে তা উপভোগ্য হওয়ার অধিকারী ছিল। - পরাগল খাঁর এই নির্দেশে কবি খুব সংক্ষেপে মহাভারত অনুবাদ করেন।
• অন্যদিকে: - শ্রীকর নন্দীর মহাভারতকে বলা হয় ‘ছুটিখানি মহাভারত’। - কৃত্তিবাস ওঝা অনূদিত রামায়ণের নাম- 'শ্রীরাম-পাঁচালি'। - 'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।