• চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। - তিনি মনসামঙ্গল কাব্যের সাথে জড়িত নয়।
• অন্যদিকে: - বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়। - এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। - সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব। - তাঁর অপর নাম কেতকা ও পদ্মাবতী। - এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত। - কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে। - চাঁদ সদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান। - মঙ্গলকাব্য ধারায় মনসামঙ্গল বিশিষ্টতা অর্জন করেছে নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহের কাহিনির জন্য। - মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা। - এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু। - চাঁদ সদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা মনসামঙ্গল কাব্যের গুরত্বপূর্ণ চরিত্র। ⇒ কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।