• পাল বংশ: - পাল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে দুঃসময়ে বিগ্রহপালের পর তাঁর পুত্র মহীপাল ৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতায় আরোহণ করেন। - তিনি কম্বোজ এবং চন্দ্রবংশের হাত থেকে ‘অনাধিকৃত বিলুপ্ত’ পিতৃরাজ্য যেমন বিহার, উত্তর বাংলা পুনরুদ্ধার করেন। - তিনি বারানসী ও সারনাথ পর্যন্ত শক্তি বৃদ্ধি করেন। তবে সেই সময় দাক্ষিণাত্যের চোলরাজ রাজেন্দ্র চোলের আক্রমণে বাংলার স্বাধীনতা প্রায় বিপন্ন হতে বসে। - তিনি পিতৃরাজ্য পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট বীরত্বের পরিচয় দেন। - তিনি রাজ্য সম্প্রসারণ ও জনহিতকর কাজ এবং বৌদ্ধ তীর্থস্থানে কীর্তি স্থাপনসহ নানা কাজের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। - তাঁর নামে ‘মহীপাল গীত’ প্রচলিত ছিল। - মহীপালের মৃত্যুর পর পাল রাজ্যে আবার অশান্তি সৃষ্টি হয়। তখন বাইরের শক্তি ক্রমাগত আক্রমণ করত। ফলে শুধু বাংলা নয় বিহারেও পাল রাজশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। দেশের ভেতরেও ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে যায়। - রামপালকেই পাল বংশের ‘শেষ মুকুট’ বলে অভিহিত করা হয়। যদিও তার মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র তৃতীয় গোপাল ও মদনপাল কিছু সময় বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তারা ছিলেন দুর্বল ও অযোগ্য। ফলে বার শতকের শেষ দিকে সেন বংশের উত্থানের ফলে পাল রাজত্বের অবসান ঘটে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।