মাটির গঠন:
- এলাকাভেদে মাটির রাসায়নিক গঠনে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
- আবার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভূপৃষ্টের উপরের মাটির সাথে নিচের দিকে মাটির ভৌতগঠনে পার্থক্য দেখা যায়।
- রাসায়নিক গঠনের উপর ভিত্তি করে মাটিতে উপস্থিত পদার্থসমূহকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
• অজৈব খনিজ পদার্থ,
• জৈব পদার্থ,
• বায়বীয় পদার্থ ও
• পানি।
- এ সকল উপাদান একে অপরের সাথে মিশে এক ধরনের জটিল মিশ্রণ তৈরি করে এবং এই উপাদানগুলোকে সহজে পৃথক করা যায় না।
- আবার মাটির ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করেও মাটির প্রকৃতি ভিন ভিন্ন হয়ে থাকে।
অজৈব খনিজ পদার্থ:
- মাটিতে উপস্থিত বিভিন্নধাতব ও অধাতব পদার্থসমূহের প্রায় সবই অজৈব যৌগ হিসেবে থাকে।
- সাধারণত ক্যালসিয়াম (Ca), অ্যালুমিনিয়াম (Al), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), লোহা বা আয়রন (Fe), সিলিকন (Si), পটাশিয়াম (K), সোডিয়াম (Na), ম্যাংগানিজ (Mn), কপার (Cu), জিংক (Zn), কোবাল্ট (Co), বোরন (B), আয়োডিন (I) এবং ফ্লোরিন (F) ইত্যাদি মৌলের বিভিন্ন অজৈব যৌগ মাটিতে থাকে।
- তাছাড়া মাটিতে কার্বনেট, সালফেট, ক্লোরাইড, নাইট্রেট এবং ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), পটাশিয়াম (K) ও সোডিয়াম (Na) ইত্যাদির জৈব লবণও পাওয়া যায়।
জৈব পদার্থ:
- মৃত বৃক্ষলতা ও জীবজন্তু পঁচে মাটিতে মিশে যায় ফলে মাটিতে জৈব পদার্থ যুক্ত হয়।
- মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ হিউমাস (Humas) নামে পরিচিত।
- উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর পঁচনের ফলে মাটিতে প্রোটিন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, সুক্রোজ, অ্যালকোহল, চর্বি, তেল, লিগনিন, ট্যানিন ও অন্যান্য অ্যারোমেটিক আধিক্য দেখা যায়।
- এটি সাধারণত কালচে বর্ণের হয়ে থাকে।
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।