ভাজক টিস্যু: - যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে।
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে।
- সাধারণত উদ্ভিদ দেহের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (যে স্থানে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে থাকে।
- ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ এরা লম্বা হয় এবং এদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়।
- ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়।
ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: - (ক) উৎপত্তি, (খ) অবস্থান, (গ) বিভাজন প্রক্রিয়া এবং (ঘ) কাজ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়।
উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: - উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যু দুই প্রকার। যথা -
১। প্রাথমিক ভাজক টিস্যু ও
২। সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু।
প্রাথমিক ভাজক টিস্যু: - যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ভ্রূণাবস্থায় সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক ভাজক টিস্যু বলে।
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে ভাজক টিস্যু থাকে।
- এদের বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।
-
প্রাথমিক ভাজক টিস্যু থেকে 'প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু'র সৃষ্টি হয়।
সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু: - সাধারণভাবে স্থায়ী টিস্যু বিভাজনক্ষম নয়।
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির জন্য কোন কোন স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়, ফলে যে ভাজক টিস্যু সৃষ্টি করে তাকে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলে।
- যে সব কোষের বিভাজন ক্ষমতা নেই সে সব টিস্যু থেকে উৎপন্ন হয় বলে এদের সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলা হয়।
- সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু সব সময় পার্শ্বীয়।
- এ টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধি হয় অর্থাৎ উদ্ভিদ পাশে বৃদ্ধি পায় বা এর বেড় মোটা হয়।
- ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম, ফেলোজেন বা কর্ক ক্যাম্বিয়াম হচ্ছে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।