সততার শ্রেণীবিন্যাসসততা ও সদগুণাবলী অসংখ্য। অনেকেই সততাকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা:
- (আত্মকেন্দ্রিক সততা
- (পরকেন্দ্রিক সততা এবং
- (আদর্শকেন্দ্রিক সততা।
(আত্মকেন্দ্রিক সততা : এ ধরনের সততা মূখ্যত ব্যক্তির নিজের কল্যাণ সাধনের উপযোগী। তাই বলে সততা যে শুধু ব্যক্তির কল্যাণে সীমিত থাকবে এমন নয়। কেননা যেহেতু ব্যক্তি সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেহেতু ব্যক্তির কল্যাণ সমাজ কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত। আত্মকেন্দ্রিক সততার কতকগুলো উপভাগ দেয়া হবে :
(১) সাহসিকতা : মানুষের দুঃখভীতিকে জয় করার শক্তিকে সাহসিকতা বলা হয়। ভবিষ্যতের বৃহত্তর এবং মহৎ উদ্দেশ্য লাভের জন্যে বর্তমানের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার শক্তি হল সাহসিকতা। মনোবল, ধৈর্য, অধ্যবসায়, দৈহিক সাহস ইত্যাদি এ শ্রেণীর সততার অন্তর্গত।
(২) মিতাচার : ব্যক্তিগত কল্যাণ ও সামাজিক কল্যাণ লাভের ইচ্ছা ও বিচারবুদ্ধির মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে মিতাচার বলা হয়। মানুষ কল্যাণ লাভের জন্যে সংযত ও বিচারবুদ্ধিসন্মত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
(৩) পরিশ্রম ও অধ্যবসায় : সাময়িক আরাম-আয়েশ তুচ্ছ করে উচ্চতর কল্যাণ লাভের জন্যে দেহ ও মনের উৎকর্ষ সাধন করা ব্যক্তির অবশ্য করণীয় ; পরিশ্রম ও অধ্যবসায় ছাড়া জীবনের সীমাহীন সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। সুতরাং মানুষকে মানুষ হিসাবে বাঁচতে হলে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের অনুশীলন আবশ্যক।
(৪) মিতব্যয়িতা : মিতব্যয়িতা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের উৎকর্ষ বিধানের জন্যে অপরিহার্য। বাক্য, কার্য ও চিন্তায় মিতব্যয়ী হওয়া মানুষের উচিত। আর্থিক মিতব্যয়িতাই শুধু পালনীয় নয়। মানুষের ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন দিকে মিতব্যয়িতার অভ্যাস বাঞ্ছনীয়। মিতব্যয়িতা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই আনয়ন করে না, সমাজের কল্যাণও সাধন করে।
(পরকেন্দ্রিক সততা : পরকেন্দ্রিক সদগুণাবলী অপরের কল্যাণ সাধনের জন্যে নিয়োজিত হয়।
যেমন:
(১) ন্যায়পরায়ণতা : প্রত্যেক মানুষের পরিশ্রমের যোগ্য পুরস্কার দেওয়া, কিংবা তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের পথে অন্তরায় সৃষ্টি না করা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত। ব্যাপক অর্থে ন্যায়পরায়ণতা বলতে সেই সকল গুণকে বুঝায়, যেগুলো সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির সাথে আমাদের সম্পর্ক মধুময় করে ।
(২) বদান্যতা : অপরের কল্যাণ সাধনের ইচ্ছাকে বদান্যতা বলা হয়। বদান্যতা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত
হয়, যেমন- স্নেহ, বন্ধুত্ব, দেশপ্রেম ইত্যাদি।
(আদর্শকেন্দ্রিক সততাঃ নৈর্ব্যক্তিক আদর্শের জন্যে আকাক্ষা আদর্শের সততা। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের আদর্শ অনুসারে জীবনকে গড়ে তোলার বাসনা ও সে অনুসারে কাজ করার অভ্যাসকে আদর্শকেন্দ্রিক সততা বলে। আদর্শকেন্দ্রিক সততা তিন ধরনের হতে পারে। যথা:
- (১) বুদ্ধি সম্বন্ধীয় সততা
- (২) সৌন্দৰ্যসম্বন্ধীয় সততা এবং
- (৩) নৈতিক সততা ।
উৎস: সিভিক এডুকেশন- ১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।