ছয় দফার গুরুত্ব: - ছয়দফার প্রতিটি দফাই ছিল তাৎপর্যপূর্ণ এবং এ কারণে একে বাঙালির বাঁচার দাবি বলা হয়েছে। - ৬ দফা কর্মসূচি প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানে বিরাট সাড়া পড়ে যায়। - পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ব্যাপকভাবে এই কর্মসূচী সমর্থন করে। - আওয়ামী লীগ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জনগণের হৃদয় জয় করে নিল। - পূর্ব বাংলার বুদ্ধিজীবী ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সরকারী কর্মকর্তাসহ, সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ৬ দফা কর্মসূচী সমর্থন করেছিল। - ৬ দফার মূল বক্তব্য ছিল, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয় বাদ দিয়ে আর সব ব্যাপারে পূর্ব-বাংলার স্বায়ত্তশাসন। - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফার মধ্যে দেশের দুই অঞ্চলের মাঝে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক বৈষম্য তুলে ধরেন। - এই গুরুত্বপূর্ণ দাবী নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি ক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করে।
উল্লেখ্য, ছয় দফার গুরুত্ব: ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ: - ছয় দফার প্রতি জনগণের সমর্থন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। - ছয় দফা আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ফলে বাঙালি জাতি নবযাগ্রত চেতনাবোধ তাদের ঐক্যবদ্ধ করে। - এর ফলে স্বায়ত্ত শাসন দাবি জোরদার হয়।
২. আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি: - ছয় দফা ভিত্তিক দাবিগুলো ছিল বাঙালির প্রাণের দাবি, তাই এদলটি '৬৬ সালের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
৩. ১৯৭৫ সালের নির্বাচনে প্রভাব: - ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কর্মসূচিতে ছয় দফা অন্তর্ভূক্ত করায় এদলটি ব্যপক জনপ্রিয়তা ও নিরংকুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে।
৪. মুক্তিযুদ্ধে প্রভাব: - ছয় দফাকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ অংকুরিত হয়। - ৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাঙালির স্বাশাসনের নিষয়টি সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। - এভাবে ছয় দফা বাঙালি জাতিকে মুক্তির প্রেরণা দেয়।