• আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। এটি ভাব বাচ্যের উদাহরণ।
- বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় ‘বাচ্য’। • বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার: - কর্তৃবাচ্য, - কর্মবাচ্য, - ভাববাচ্য।
কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে। যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে। - কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় । - কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।
কর্মবাচ্য: যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে। - কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়। যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। চোরটা ধরা পড়েছে। - কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। - ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। - ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন- - আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। - আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। - তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।