এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
পর্বতের প্রকারভেদঃ
পর্বত নানা প্রকারে গঠিত হয়। উৎপত্তির কারণ ও গঠন অনুসারে পর্বতকে পাঁচ শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ভঙ্গিল বা ভাঁজ পর্বত (Fold Mountain):
বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে শিলায় ঢেউ এর মতো ভাঁজ পড়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্কিল পর্বত বলে।
- 'পাত ভূগঠন তত্ত্ব' ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির কারণ।
যেমন - হিমালয়, আন্দিজ, আল্পস, রকি ইত্যাদি।
২. স্তূপ পর্বত (Block Mountain):
প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে শিলাস্তরের সংকোচন ও প্রসারণ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে কখনো কখনো ভূত্বক খাড়াভাবে ফেটে যায়, যে রেখা বরাবর ফাটল হয় তাকে চ্যুতিরেখা বলে।
- কখনো কখনো দেখা যায়, দুটি সমান্তরাল ফাটলের মধ্যবর্তী অংশটি চাপের ফলে পাশ্ববর্তী স্থান অপেক্ষা ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়।
- এই উত্থিত অংশ ভূমির উপর স্তূপ আকারে দাঁড়িয়ে থাকে বলে এধরনের পর্বতকে স্তূপ পর্বত বলে।
যেমন - জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ফ্রান্সের ভোজ পর্বত ইত্যাদি।
৩. ল্যাকোলিথ পর্বত (Lacolith Mountain):
পৃথিবীর অভ্যন্তরে ম্যাগমা বা গলিত শিলার উপাদানসমূহের সাথে বিবিধ গ্যাস মিশ্রিত অবস্থায় থাকে।
- এ গ্যাস অনেক সময় ঊর্ধ্বপ্রবাহী হয়ে ভূপৃষ্টের দিকে আসার চেষ্টা করে। এ গ্যাসের সাথে প্রচুর ম্যাগমাও থাকে।
- কিন্তু প্রায়ই তা ভূত্বকে আসার পথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ভূত্বকের নিচেই সঞ্চিত থাকে। আস্তে আস্তে এই ম্যাগমা কঠিন আকার ধারন করে।
- এই ধরণের পর্বতকে ল্যাকোলিথ বা গম্বুজ পর্বত বলে। ভূআলোড়ন এ জাতীয় পর্বত গঠনে প্রভাব বিস্তার করে।
যেমন - যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাক হিলস্ ও হেনরী পর্বত।
৪. আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountain):
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের দুর্বল অংশ ফেটে যায়। ঐ ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভা, নানা প্রকার গ্যাস ও বাষ্প, ছাই ইত্যাদি প্রবল বেগে নির্গত হয়ে ফাটলের চারদিকে সঞ্চিত হয়।
- এরূপে বার বার ঐসব পদর্থ ফাটলের চারদিকে সঞ্চিত হতে হতে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি হয়।
- আগ্নেয় পদার্থ সঞ্চিত হয়ে এ প্রকার পর্বত গঠিত হয় বলে একে আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলে।
যেমন - ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, হাওয়ায় দ্বীপের মোনালোয়া ইত্যাদি।
৫. ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত (Erosional or Residual Mountain):
সৌরতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের ফলে ভূত্বকের নরম অংশ ক্ষয় হতে হতে অপসারিত হয়।
- কঠিন শিলাগুলো অল্প ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পর্বতরূপে থেকে যায়। এরূপ সৃষ্ট পর্বতকে ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত বলে।
যেমন - ভারতের আরাবল্লী, ইউরোপের সিয়েরা নেভেদা, উত্তর আমেরিকার অ্যাপালেশিয়ান ইত্যাদি।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল (১ম পত্র) বোর্ড বই।
রেফারেন্স মাত্র
অ্যাপে আরও ১ লক্ষ+ প্রশ্ন অনুশীলন করুন
বিনামূল্যে • ৪.৯★ রেটিং • ৫০K+ ডাউনলোড