বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে, মঙ্গলকাব্যের শাখা ৩টি যথা: ১. মনসামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম), ২. চণ্ডীমঙ্গল, ৩. অন্নদামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে আধুনিক)।
এবং মঙ্গলকাব্যের অংশ ৫টি যথা: - বন্দনা, - আত্নপরিচয়, - দেবখণ্ড, - মার্ত্যখণ্ড ও - শ্রুতিফল।
⇒ মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। কালক্রমে শিবঠাকুরও মঙ্গলকাব্যের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তৎকেন্দ্রিক কাব্যধারার নাম শিবায়ন বা শিবমঙ্গল।
⇒ সাধারণভাবে মঙ্গলকাব্যগুলির রচনাকাল ধরা হয় চৈতন্যপূর্ব যুগ থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলের সময় পর্যন্ত। ত্রয়োদশ শতকে বাংলায় মুসলিম শাসনের সমকালে কিংবা অব্যবহিত পরে এর প্রথম রূপটি তৈরি হয়। তারপর একাদিক্রমে ভারতচন্দ্র (১৭১২-১৭৬০) পর্যন্ত এ ধারা চলতে থাকে।
⇒ “মনসামঙ্গল” মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম। সর্পদেবী মনসার কাহিনী এর উপজীব্য। বাংলার লোকসমাজে বহু পূর্ব থেকেই সর্পপূজার প্রচলন ছিল। মনসা অনার্য দেবতা, তাই অনার্য দ্রাবিড় সভ্যতা থেকে এর আগমন ঘটেছে বলে মনে করা হয়। সর্পের বিষাক্ত ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই দাক্ষিণাত্যবাসী দ্রাবিড়দের মধ্যে এই সর্পদেবীর পূজার প্রচলন হয়। বিষধর সাপ সাধারণত জঙ্গলেই থাকে, তাই সর্পদেবীর বিষহরী, জাঙ্গুলী, পদ্মাবতী ইত্যাদি নামও দেখা যায়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।