⇒ ‘কল্পতরু’ উপন্যাস: • ‘কল্পতরু’ ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ-উপন্যাস। • বঙ্গদর্শনে সমালোচনা করতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র কল্পতরুকে ‘বঙ্গভাষার একটি উৎকৃষ্ট উপন্যাস' আখ্যা দিয়েছেন।
• বঙ্কিমচন্দ্র মতপ্রকাশ করেছেন যে, “বাবু ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একখানি মাত্র গ্রন্থ প্রচার করিয়া বাঙ্গালায় প্রধান লেখকদিগের মধ্যে স্থান পাইবার যোগ্য বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন।' তবে তিনি যে কল্পতরুকে আলালের ঘরের দুলাল ও হুতোম প্যাঁচার নকশা ওপরে স্থান দিয়েছেন, তার সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন না।
-------------------- ⇒ ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: • ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৪৯-১৯১১) জন্ম যদিও বর্ধমানের একটি গ্রামে, সাত মাস থেকে ন বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায়। ফলে বাংলা ভাষা তাঁর ঠিকমতো রপ্ত হয়নি। • ইন্দ্রনাথ পরবর্তী উচ্চ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং সাহিত্যিকরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করে বাংলা ভাষা ও তার সংস্কার সম্পর্কে প্রবন্ধ ও অভিভাষণ লিখেছিলেন। • বস্তুত বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের স্রষ্টা হিসেবে একসময়ে তিনি অতি উচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন। • সাহিত্যক্ষেত্রে ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব অনেকটা আকস্মিক। তিনি যখন কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করেন, তখন কিছুটা খেয়ালের বশেই ক্ষুদ্রকায় ব্যঙ্গকাব্য “উৎকৃষ্ট কাব্যম” (১৮৭০) রচনা করেন। • পরে তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধে লেখেন “কল্পতরু” (১৮৭৪)।
অন্যদিকে, - ‘গাভী বিত্তান্ত’ আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস। - বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - আলালের ঘরের দুলাল। - ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান, যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন। এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
উৎস: ‘কল্পতরু’ উপন্যাসের (ভূমিকা) ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।