রাখাইন জনগোষ্ঠী:- রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।- এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য।- এরা নিজেদের 'রাক্ষাইন' নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।- রাখাইনরা এক সময় 'মগ' নামে পরিচিত ছিলো।- অনেক গবেষকের মতে রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত।- রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি। রাজবংশী:- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়। - রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছ ধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।- মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।- পিতাই পরিবারের প্রধান।- খরা, অনাবৃষ্টি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হুদুমা’ পূজা রাজবংশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান।- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই। এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্র রূপ।- রাজবংশীরা মৃতদেহ পুড়িয়ে সৎকার কাজ সম্পন্ন করে।তঞ্চঙ্গ্যা:- তঞ্চঙ্গ্যা, তনচংগা, তনচংগ্যা, তংচংগ্যা অথবা তঞ্চংগ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। - আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যার দিক থেকে এদের স্থান পঞ্চম। - পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় পাহাড়ি জাতির মতো তঞ্চঙ্গ্যাদের আবাসভূমিও গড়ে ওঠে নদীসংলগ্ন উপত্যকায়।- তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত কৃষি।- তঞ্চঙ্গ্যাদের গোত্র বা গছাভেদে ভাষার উচ্চারণের ক্ষেত্রে কিছুুটা পার্থক্য বিদ্যমান। - তারা ১২টি গোত্র বা গছায় বিভক্ত।- তঞ্চঙ্গ্যা রমণীর পরনে থাকে প্রথমত সাত রঙের পিনুইন বা পিনন।- তঞ্চঙ্গ্যারা বিয়েকে সাঙা বলে। - এরা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হলেও এদের অনেকে গাঙপূজা, ভূতপূজা, চুমুলাংপূজা, মিত্তিনীপূজা, লক্ষ্মীপূজা, কে-পূজা, বুরপারা ইত্যাদি দেব-দেবীর পূজা করে।- এদের ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।- তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে পিতার অবর্তমানে পুত্রসন্তানরা উত্তরাধিকার সূত্রে সমানভাবে জমিজমা, ঘরের আসবাব, গবাদি পশু প্রভৃতি সম্পদের মালিকানা পায়। অন্যদিকে,- রোহিঙ্গা বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী নয়।- এরা মায়ানমারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী।উৎস: বাংলাপিডিয়া।