বহুব্রীহি সমাস: - যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।- যেমন:• বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত; • বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি; • লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি। ♣ সমানাধিকার বহুব্রীহি: - পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।- যেমন: • নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ,• হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, • লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে, • এক গোঁ যার = একগুঁয়ে। ♣ ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।- যেমন:• পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,• কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব, • গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে। ♣ পদলোপী বহুব্রীহি:- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।- যেমন:• চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,• হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। ♣ ব্যতিহার বহুব্রীহি:- পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। - যেমন:• হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,• হাসিতে হাসিতে যে ক্রিয়া = হাসাহাসি, • ঘুষাঘুষি = ঘুষিতে ঘুষিতে যে লড়াই, • কানে কানে যে কথা = কানাকানি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।