শব্দ ও গঠনবৈচিত্র্য বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে। - এগুলাে হলাে : উপসর্গ যােগে, প্রত্যয় যােগে এবং যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।
- মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়। সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়। অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে। কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়। - উদাহরণসরূপ, ‘সিংহাসন' শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে। অর্থাৎ, এই সমাসের পূর্বপদ সিংহ এবং পরপদ আসন পাশাপাশি বসেছে। এখন লক্ষ করা গেল যে, সিংহ-এর শেষে একটি স্বরধ্বনি রয়েছে এবং আসন-এর শুরুতে একটি স্বরধ্বনি রয়েছে। তাই এই দুটি স্বরধ্বনি এক ধ্বনিতে পরিণত হয়ে সিংহাসন শব্দটি গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, শব্দ গঠনের মূল অংশে সন্ধির কোনাে ভূমিকা ছিল না। আবার বাংলা ভাষায় প্রচলিত অভিন্নার্থক দুটি শব্দ– উপরিউক্ত এবং উপযুক্ত। দুটি শব্দই ব্যাকরণসম্মত এবং প্রথমটিতে সন্ধি ঘটেনি এবং দ্বিতীয়টিতে সন্ধি ঘটেছে। তাতে শব্দটির গঠনগত কোনাে ত্রুটি তৈরি হয়নি। সুতরাং বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গ, প্রত্যয় এবং সমাসই ভূমিকা পালন করে।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।