স্থির তরঙ্গ: - একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয়, তাকে স্থির তরঙ্গ বলে।
- দুই প্রান্তে বাঁধা একটি টান টান করা তারের যেকোনো স্থানে টোকা দিলে বা সামান্য টেনে ছেড়ে দিলে অগ্রগামী তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। তরঙ্গটি তার বেয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। এবং অপর প্রান্ত হতে প্রতিফলিত হয়ে মূল তরঙ্গের উপর আপতিত হয়। মূল তরঙ্গ এবং প্রতি ফলিত তরঙ্গ দুটির বিস্তার এবং কম্পাঙ্ক অভিন্ন। এদের মধ্যে দশার পার্থক্য 180°, এরা সম বেগে বিপরীত দিক থেকে এসে একে অপরের উপর আপতিত হয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।
সুস্পদ বিন্দু: - যে সকল বিন্দুতে আন্দোলন সর্বাধিক সেই সব বিন্দুতে লব্ধি বিস্তার সর্বোচ্চ অর্থাৎ, A = ±2a, সেই সব বিন্দুতে সুস্পন্দ তৈরি হবে।
নিস্পন্দ বিন্দু:- যে সকল বিন্দুতে cos kx বা cos (2πx/λ = 0 সে সকল বিন্দুতে A = 0 হবে, অর্থাৎ সে সকল বিন্দুতে তরঙ্গেও বিস্তার A = 0 বা তরঙ্গের কোন স্পন্দন নাই। ঐ বিন্দুগুলিতে নিস্পন্দ তৈরি হবে।
স্থির তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: ১. মাধ্যমের স্থির বিন্দুগুলি ছাড়া অন্য সকল কণাই পর্যাবৃত্ত গতি লাভ করে। স্থির বিন্দুগুলি নিস্পন্দ বিন্দু।
২. স্থির বিন্দু ছাড়া অন্যান্য বিন্দুর কণাগুলির দোলন কাল বা স্পন্দন সমান হলেও বিস্তার সমান নয়।
৩. যে বিন্দুতে বিস্তার সর্বাধিক তাদের সুস্পব্দ বিন্দু বলে। স্থির বিন্দুগুলিকে নিস্পন্দ বিন্দু বলে।
৪. পাশাপাশি দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী সকল কণা একই দশায় থাকে।
৫. প্রত্যেক পূর্ণ কম্পনে কণাগুলো দু'বার সাম্য অবস্থানে আসে।
৬.
পরপর তিনটি নিস্পন্দ বিন্দু বা তিনটি সুম্পন্দ বিন্দুর মধ্যের দূরত্বই স্থির তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।