আউশ ধান: প্রধানত উচ্চভূমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়। তবে অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমি উর্বর নতুন চরাঞ্চলে ও এ ধান চাষ করা হয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে এ ধান বপন করা হয় এবং জুন-জুলাই মাসে ধান কাটা হয়।
আমন ধান: প্রধানত আমন ধান নীচু জমির ধান। বর্ষাকালে যে সকল জমি প্লাবিত হয়, সে সব জমিতে আমন ধান ভাল জন্মে।
বাংলাদেশে সাধারনতঃ দুই প্রকার আমন ধান চাষ করা হয়। যথাঃ রোপা আমন ও ছিটানো আমন (রোপন ও বপন)। প্রায় সকল জেলাতেই এ ধান হয়ে থাকে। এর মধ্যে বরিশাল, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, বগুড়া, যশোর পটুয়াখালী প্রভৃতি জেলায় ইহা অধিক পরিমান উৎপাদিত হয়ে থাকে।
বোরো ধান: বাংলাদেশে নীচু কাদামাটিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে যখন পানি কমে যায় তখন এ ধানের চারা রোপন করা হয়। আবার মার্চ - এপ্রিল মাসে কাটা হয়। বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, হাওড় অঞ্চল বাংলাদেশের প্রধান বোরো ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল। এছাড়াও বৃহত্তর রাজশাহী এবং বরিশাল অঞ্চলেও বোরো ধানের চাষ হয় ।
উচ্চ ফলনশীল ধান: গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চফলনশীল ধান (উফশী ধান) চাষ করা হচ্ছে। ইহা মূলতঃ আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (International Rice Research Institute) এর উদ্ভাবিত প্রজাতী। এর সংক্ষিপ্ত নাম ইরি (IRRI) ধান। ইরি ধানে উৎপাদন একর প্রতি ৪০ থেকে ৮০ মন। ইরি ধানের জন্য উত্তাপ এবং সেচ একই সঙ্গে প্রয়োজন হয়। এ জন্য বাংলাদেশে ইহা ভালো ভাবে চাষে করা যায়।
উৎস: অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।