• পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য: - তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রচলিত ছিল বাংলা ভাষা যা সমগ্র পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের মুখের ভাষা।- কিন্তু ক্ষমতাসীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয়। এ- একটি বাজেটে শিক্ষা খাতে করাচীর জন্য ৪০ লক্ষ ১৪ হাজার, সিন্ধুর জন্য ১০ লক্ষ, সীমান্ত প্রদেশে ১১ লক্ষ এবং পূর্ব পাকিস্তানে মাত্র ৭১ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়।- ১৯৫৫ থেকে ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ৬১.৪ শতাংশ রপ্তানী আয়ের বিপরীতে পশ্চিম পাকিস্তানের রপ্তানী আয় ছিল ৩৮.৬ শতাংশ।- কিন্তু মোট জাতীয় বাজেটের ৭৫ শতাংশ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে, পূর্ব পাকিস্তানে ব্যয় হতো মাত্র ২৫ শতাংশ। - ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয় লাভ করে সরকার গঠন করলেও কিছুদিনের মধ্যে তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভেঙ্গে দেয়া হয়।- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনরা নানা- সামরিক বাহিনীর (বিমান, নৌ ও সেনা) সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে।- মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, মহাপরিচালকের কার্যালয় সবকিছু ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে।- ১৯৬০ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় ৫৬ শতাংশ ব্যয় হতো সামরিক খাতে, যার মাত্র ১০ শতাংশ ব্যয় হতো পূর্ব পাকিস্তানে।- পশ্চিম পাকিস্তানের ৮৯৪ জন সেনাকর্মকর্তার বিপরীতে বাঙালি সেনাকর্মকতা ছিলেন মাত্র ১৪ জন (৫%)। - নৌ এবং বিমান বাহিনীতে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৫৯৩ এবং ৬৪০ জনের বিপরীতে ০৭ জন এবং ৬০ জন।- পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে মোট ৫১২ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিলেন ১৮৬ জন।- অথচ পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা এবং কর প্রদানের পরিমাণ পশ্চিম পাকিস্তান অপেক্ষা অনেক বেশি ছিল।সূত্র: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।