• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: - কৃৎ প্রত্যয় এবং - তদ্ধিত প্রত্যয়। কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা : বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: √ণী+ণক ˃ নৈ+অক = নায়ক, √গৈ+ণক = গায়ক, √কৃ+অনীয় = করণীয়, √রক্ষ+অনীয় = রক্ষণীয়
তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা, ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা। বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা: - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। - সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।