Code of Criminal Procedure- এর ১৪৫ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্য কোনটি?
Code of Criminal Procedure- এর ১৪৫ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্য কোনটি?
Code of Criminal Procedure- এর ১৪৫ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্য কোনটি?
এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক বিরোধ সম্পর্কে আলোচনা ।
স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক বিরোধ:
ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তি তথা জমি জমা সম্পর্কিত বিরোধ প্রসঙ্গে অস্থায়ী আদেশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে । পত্র পত্রিকায় প্রায়ই দেখা যায় , জমি জমা নিয়ে দুই বা তিন পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা উপযুক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অস্থায়ী আদেশ জারী করতে পারেন। তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা থেকে ১৪৫ ধারা একেবারেই স্বতন্ত্র। ১৪৫ ধারায় কোন আাদেশ প্রদানের পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিবাদরত পক্ষবৃন্দকে তার আদালতে হাজির হওয়ার জন্য এবং বিরোধের বিষয়বস্তুতে প্রকৃত দখল সম্পর্কে তাদের দাবী ও বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নোটিশ জারী করবেন। এইরূপে স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে শান্তি ভঙ্গ হলে কিংবা শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা সৃষ্টি হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় আদেশ দান করবেন।
এই ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে নিম্নোক্ত উপাদানগুলি থাকতে হবে-
১. বিবাদমান পক্ষসমূহের মধ্যে একটি বিরোধের অস্তিত্ব থাকতে হবে।
২. বিরোধটি অবশ্যই ভূমি এবং জলের দখল সম্পর্কিত হতে হবে। তবে দালান , বাজার,মৎস খামার, ফসল, ভূমির অন্যান্য উৎপাদিত দ্রব্য বা খাজনার মুনাফাও এই ধারার অধীনে ব্যবহ্ত, জমি বা পানি কথাটির অন্তর্ভূক্ত হবে ।
৩. এই ভূমির দখল সম্পর্কের বিরোধের বিষয়টি শান্তি ভঙ্গ করে এইরকম সংবাদ সম্পর্কে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশ অথবা অন্য কোন মাধ্যমে অবহিত হবেন।
ম্যাজিস্ট্রেটের এই দখল ও বিরোধ সম্পর্কিত পক্ষসমূহকে তার আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ জারী করবেন এবং পক্ষসমূহ অথবা তাদের কৌসুলীদের বক্তব্য শুনবেন। ভূমির কোন পক্ষ আইনসঙ্গতভাবে দখলে ছিলেন কিনা এই বিষয় ম্যাজিস্ট্রেট স্থির করবেন কার্যবিধির ১৪৫ ধারার ৪ উপধার অনুসারে। তবে, ম্যাজিস্ট্রেট যদি ঘটনাটিকে জরুরী বলে মনে করেন তাহলে তিনি বিরোধের বিষয়বস্তু ক্রোক করতে পারবেন।
১৫৪ ধারার ৫ উপধারার মূল বক্তব্য হলো যদি বিরোধের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষ ম্যাজিস্ট্রেটকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে, উক্ত ভূমিতে কোন বিরোধের অস্তিত্ব নাই তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তার পূর্ববতী আদেশ বাতিল করবেন।
১৪৫ এর অধীন কোন অস্থায়ী আদেশ প্রদানের মূল শর্ত হলো বিরোধীয় সম্পত্তির কারণে শান্তি ভঙ্গ হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আদম আলী সরদার বনাম রাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেন, ‘১৪৫ ধারানুযায়ী প্রাথমিক আদেশ দেয়ার শর্ত এবং উক্ত আশঙ্কা চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আবার ভূমির দখল সম্পর্কিত যে বিরোধের কারণে ম্যাজিস্ট্রেট কোন অস্থায়ী আদেশ দেন বা রিসিভার নিয়োগ দেন অথবা ক্রোকের আদেশ দেন সেক্ষেত্রে যদি পক্ষসমূহ দাবী করে এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে সন্তুষ্ট করে যে, উক্ত ভূমির দখল সম্পর্কিত কোন বিরোধের অস্তিত্ব নেই। সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তার পূর্ববর্তী আদেশ বাতিল করতে পারেন। মালিক মজ্ঞুর এলাহী বনাম লালা বিশ্বন্বর দাস মামলায় সুপ্রীম কোর্ট বলেন, ” কোন বিরেধীয় বিষয় না থাকলে উপধারা ১ এ প্রদত্ত প্রাথমিক আদেশ বাতিল করতে হবে । কোন ক্ষেত্রে পক্ষবৃন্দ তাদের বিরোধ মিটিয়ে ফেললে অথবা কার্যধারা শুরু করা ব্যক্তি দখলের প্রতি তার দাবি পরিত্যাগ করলে প্রাথমিক আদেশ বাতিলের ক্ষমতা কেবল অত্র সেই ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। যখন বিরোধীয় কোন পক্ষ বা স্বর্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি এসে হাজির হয় এবং এরূপ বিরোধের অস্তিত্ব কোন কালে ছিল বলে অস্বীকার করে, তখন তিনি তার অভিযোগ প্রমাণের নিমিত্ত সাক্ষ্য পেশ করতে পারেন, এবং উক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করে ম্যাজিস্ট্রেট যদি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, উক্ত ব্যক্তি বিরোধ কোন কালে ছিল না মর্মে তার দাবী প্রমাণ করতে সফল হয়েছেন তখন ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত প্রাথমিক আদেশ বাতিল করতে বাধ্য। ১৪৫ ধারার বিধান হচ্ছে যে সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত আদেশ না দেওয়া হয় ঐ সময় পর্যন্ত শান্তিভঙ্গের অব্যাহত আশংকা বিদ্যমান থাকতে হবে।
ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা বিশ্লেষণ করে এই উপসংহারে আসা যায়, যে পর্যন্ত কোন ভূমির দখল সংক্রান্ত বিবাদ শান্তিভঙ্গ করে অথবা শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা সৃষ্টি করে সে পর্যন্ত ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেট অস্থায়ী আদেশের মাধ্যমে বিরোধীয় ভূমিতে রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন অথবা বিরোধের বিষয়বস্তু ক্রোক করতে পারেন।
ধারা ১৪৪ ও ১৪৫ এর মধ্যে পার্থক্য:
ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা দুটিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা যথার্থ ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন ঘটনার দ্বারা শান্তিভঙ্গের আশংকা সৃষ্টি হলে অস্থায়ী আদেশ জারী করতে পারেন । এই অস্থায়ী আদেশের অন্তর্ভূক্ত বিষয় হলো , আদিষ্ট ব্যক্তিকে কোন নির্দিষ্ট কাজ অথবা কোন নির্দিষ্ট স্থানে গমনাগমন করা হতে বিরত রাখা বা বিরোধীয় ভূুমিতে রিসিভার নিয়োগ করা বা সম্পত্তি ক্রোক করা। তা সত্ত্বেও কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা দুটির মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। নিম্নে পার্থক্যগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা নিবারন বা রোধ করা। কিন্তু ১৪৪ ধারায় গণউৎপাত বা আসন্ন বিপদের দ্বারা শান্তি ভঙ্গ হলে তৎক্ষণাৎ অস্থায়ী আদেশ জারী করা যেতে পারে। কিন্তু ১৪৫ ধারা প্রয়োগ করতে হলে পক্ষদ্বয়ের শুনানী অনুষ্ঠিত হতে হয়।
২. কার্যবিধির ১৪৪ ধারার অধীনে অস্থায়ী আদেশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদান করতে পারে। কিন্তু মহানগর এলাকায় এ ক্ষমতা পুলিশ কমেশনার প্রয়োগ করতে পারেন। ১৪৫ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ কেবলমাত্র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃকই হতে পারে; অন্য কোন কর্মকর্তা দ্বারা নয়।
৩. ১৪৪ ধারা প্রয়োগের বিষয়ে জনগণের শান্তিশৃঙ্খলায় ব্যাঘাত সৃষ্টিতে ব্যক্তিবর্গের সমাবেশ অথবা মিছিল অথবা অন্য যেকোন রূপে হতে পারে কিন্তু বিরোধের বিষয় হবে মানুষকেন্দ্রিক। অপরদিকে ১৪৫ ধারা প্রয়োগ করতে হলে দেখতে হবে যে পক্ষসমূহের মধ্যে বিরোধের বিষয় হলো ভূমি বা পানিকেন্দ্রিক।
৪. ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ এর অধীনে প্রদত্ত প্রতিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও মাত্রাগত পার্থক্য রয়েছে। ১৪৪ ধারার প্রয়োগ ম্যাজিস্ট্রেটের স্বেচ্ছাধীন। অপরদিকে ১৪৫ এর কোন বিরোধের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে বাধ্য । এ প্রসঙ্গে মো. আলী আসগর বনাম ইসরাইল এবং অন্যান্য মামলায় আদালত বলেন, “ যেহেতু ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় যথাক্রমে 'Magistrate May' এবং 'he shall' শব্দাবলী ব্যবহার করা হয়েছে, তাই ১৪৪ ধারানুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করা স্বেচ্ছাধীন। পক্ষান্তরে ১৪৫ ধারায় বাধ্যতামূলক।”
৫. ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারাধীনে প্রদত্ত অস্থায়ী আদেশ সর্বোচ্চ ২ মাস কার্যকর থাকে। ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪ ধারায় কোন আদেশ দিলে তা ২ মাস পর অকার্যকর হয় । ১৪৫ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত আদেশ স্থাবর সম্পত্তির আইনগত স্বত্ত্বাধিকারী বা দখলদার নির্ণীত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
৬. ১৪৪ ধারায় অস্থায়ী আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটকে যাদের বরাবর আদেশ প্রদান করা হবে তাদের নিকট নোটিশ পাঠাতে হয় । জরুরী হলে ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ না পাঠিয়ে উপযুক্ত স্থানে লটকিয়ে দিলেও আদেশ কার্যকর হয়। অপরপক্ষে ১৪৫ ধারা অনুযায়ী পক্ষসমূহের বক্তব্য না শুনে কোন আদেশ প্রদান করা যাবে না।
৭. ১৪৪ ধারায় যেহেতু বিরোধীয় বিষয়বস্তু হিসেবে কোন ভূমি বা পানির অস্তিত্ব থাকে না সেহেতু এ ধারাধীনে ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগের বিধান নেই। ১৪৫ ধারানুসারে ম্যাজিস্ট্রেট কোন সম্পত্তির দখল চূড়ান্তভাবে নির্ণীত হবার পূর্বে সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগের আদেশ দিতে পারেন।
রেফারেন্স মাত্র
অ্যাপে আরও ১ লক্ষ+ প্রশ্ন অনুশীলন করুন
বিনামূল্যে • ৪.৯★ রেটিং • ৫০K+ ডাউনলোড
আইন
বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন-
কোনটি সাংবিধান পদ নয়?
Who quoted ‘’It is better that ten guilty persons escape than one innocent suffer''?
একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদ ( Direct set aside) এর দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করা হলে এর বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
The Code of Civil Procedure , 1908 অনুসারে স্বীকৃতির প্রেক্ষিতে রায় (Judgment on admissions) এর বিধান কী?
<br>