পর্যায় সারণী হচ্ছে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থকে একত্রে উপস্থাপনের একটি আন্তর্জাতিক গৃহীত ছক। এই ছকের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌলের মধ্যে ভৌত ও রাসয়নিক ধর্মের মিল এবং এসব ধর্মের ক্রমপরিবর্তন দেখানো হয়। ল্যাভয়সিয়ে (Antoine Lavoisier) সর্বপ্রথম ১৭৮৯ সালে ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে মৌলসমূহকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেন।
আধুনিক পর্যায় সারণির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ- - পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি (row) ও 18 টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ (column) রয়েছে। - প্রতিটি পর্যায় বাম দিক থেকে গ্রুপ–1 হিসেবে শুরু করে গ্রুপ–18 পর্যন্ত বিস্তৃত। - মূল পর্যায় সারণির নিচে 2 টি আনুভূমিক সারি এবং 14 টি খাড়া স্তম্ভবিশিষ্ট একটি ছোট ছক প্রদর্শিত হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির পর্যায়–6 ও পর্যায়–7 এর অংশবিশেষ। - পর্যায়-1 এ শুধু দুটি মৌল রয়েছে, যারা গ্রুপ-1 ও গ্রুপ–18 তে অবস্থিত। একইভাবে পর্যায়–2 ও পর্যায়-3 এ আটটি করে মৌল আছে যারা গ্রুপ–1 থেকে গ্রুপ–2 এবং গ্রুপ–13 থেকে গ্রুপ–18 এর মধ্যে অবস্থিত। - পর্যায়–4 থেকে পর্যায়–7 পর্যন্ত সবগুলো পর্যায়ের প্রতিটি গ্রুপই মৌল দ্বারা পূর্ণ। - পর্যায়–4 ও পর্যায়–5 এই পর্যায় দুটির ক্ষেত্রে 18টি গ্রুপে 18টি মৌল রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক গ্রুপে একটি করে মৌল জায়গা দখল করে নিয়েছে। - সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসয়নিক ধর্ম প্রায় একই রকমের হয়। - পর্যায় তালিকায় কোন মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার উপর।