এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
কাহ্নপা (আনু. ১০ম শতক) বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। কিন্তু তার মধ্যে ১২ টি পদ পাওয়া যায়।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ। পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- কাহ্নপা সম্প্রদায়গতভাবে ছিলেন ব্রাহ্মণ, পরে সহজিয়া মতে দীক্ষা নিয়ে সিদ্ধাচার্য, মন্ডলাচার্য ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত হন।
- পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারে তিনি অবস্থান করতেন।
- তিনি বৌদ্ধ সহজিয়া মতের অনুসারী ছিলেন; জলন্ধরী পা ছিলেন তাঁর গুরু।
- এ পর্যন্ত কাহ্নপার ভণিতায় ৭৪খানি গ্রন্থের নাম জানা গেছে। অনেকে মনে করেন, সকল গ্রন্থের রচয়িতা একই কাহ্নপা নাও হতে পারেন।
- চর্যাপদ ছাড়া বাকিগুলি অপভ্রংশ ও সংস্কৃত ভাষায় রচিত। তাঁর পদগুলিতে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের মিশ্রণ আছে।
- অন্যান্য পদকর্তার মতো কাহ্নপাও সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। তাঁর প্রত্যেক পদের শীর্ষে রাগ-তালের উল্লেখ আছে। রূপক-প্রতীক-সংকেতের ভাষায় রচিত পদগুলিতে তাঁর কবিত্বশক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।
তাঁর নামে প্রচলিত কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে:
- কাহ্নপাদগীতিকা,
- শ্রীহেবজ্রপঞ্জিকা যোগরত্নমালা,
- হেবজ্রসাধন তত্ত্বোদ্যোৎকর,
- হেবজ্রপদ্ধতি মন্ডলবিধি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
রেফারেন্স মাত্র
অ্যাপে আরও ১ লক্ষ+ প্রশ্ন অনুশীলন করুন
বিনামূল্যে • ৪.৯★ রেটিং • ৫০K+ ডাউনলোড