• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক: - মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। - এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়। - ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত। - নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’। - ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।
------------------ • মীর মশাররফ হোসেন: - তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। - তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। - তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। - মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। - গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। - মীর মশাররফ হোসেন 'আজীজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। - মীর মশাররফ হোসেন 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন। - বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' ও নাটক 'বসন্তকুমারী' তাঁর রচনা। - তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস।
• তাঁর রচিত উপন্যাস: - রত্নবতী, - বিষাদ-সিন্ধু, - উদাসীন পথিকের মনের কথা।
• তাঁর রচিত নাটক: - বসন্তকুমারী, - জমিদার দর্পণ, - বেহুলা গীতাভিনয়, - টালা অভিনয়।
• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: - গাজী মিয়াঁর বস্তানী, - আমার জীবনী, - কুলসুম জীবনী।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: - গো-জীবন।
অন্যদিকে, - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক ‘অশ্রুমতী’ এবং অনুবাদ নাটক ‘মালতী-মাধব’। - গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত গীতিনাট্য ‘আবু হোসেন’। - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক ‘পদ্মাবতী’
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।