• বানান-সূত্র:
- দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ-কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার (ি) দেয়া যাবে।
যেমন:
- দেশ: গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি। (ব্যতিক্রম: চীন, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ)
- ভাষা: হিন্দি, সাঁওতালি, আরবি, পারসি ইত্যাদি।
- জাতি: বাঙালি, ইত্যাদি। পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।
২. অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে। যেমন:
অপ্রাণিবাচক শব্দ: বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি।
ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ: পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।
৩. সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার হবে।
যেমন: জননী, স্ত্রী, নারী, সাধ্বী ইত্যাদি।
৪. বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে। না।
যেমন: ষ্টেশন হবে না, হবে স্টেশন; ষ্টুডিও হবে না, হবে স্টুডিও; ফটোষ্ট্যাট হবে না, হবে ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।
৫. তৎসম বা সংস্কৃত কতিপয় শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দের বানানে 'ণ' হবে না, হবে 'ন'।
যেমন: কর্ণার হবে না, হবে কর্নার; কর্ণেল হবে না, হবে কর্নেল; বামুণ হবে না, হবে বামুন ইত্যাদি।
৬. বানানে যে বর্ণের উপর রেফ থাকবে, সেই বর্ণে দ্বিত্ব হবে না।
যেমন: কাৰ্য্যালয় হবে না, হবে কার্যালয়; নির্দ্দিষ্ট হবে না, হবে নির্দিষ্ট, পৰ্ব্বত হবে না, হবে পর্বত ইত্যাদি।
৭. বিস্ময়সূচক অব্যয় (যেমন: বাঃ / ছিঃ / উঃ ইত্যাদি) ছাড়া বাংলা কোনো শব্দের শেষে বিসর্গ রাখা যাবে না।
যেমন: প্রায়শঃ / বিশেষতঃ / কার্যতঃ / প্রথমতঃ ইত্যাদি লেখা যাবে না, লিখতে হবে প্রায়শ / বিশেষত / কার্যত / প্রথমত ইত্যাদি।
৮. শব্দে ঊর্ধ্বকমা লেখা যাবে না।
যেমন: আগে লেখা হতো (হ'লো) এখন (হলো); আগে (দু'টি) এখন (দুটি); আগে (তা'র) এখন (তার) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।