এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিলের ঘোষণার পর ১৯৭১ সালের ২-২৫ মার্চ পর্যন্ত অসহযোগ আন্দোলন চলে।
- এই সময় পূর্ব পাকিস্তান মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাতেই চলতো।
- কোন রকম বিশৃঙ্খলা এড়াতে আন্দোলনরত জনতাকে বঙ্গবন্ধু ১৪টি নির্দেশনা দেন।
তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ ১১ মার্চ এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে ১৪টি নির্দেশ জারি করেন।
- মূলত সরকারি অফিস, ব্যাংক–বিমা ও অন্যান্য সংস্থা কীভাবে চলবে এবং কী কী বিধিনিষেধ মেনে চলবে—বিবৃতিতে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
- বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের ভেতরে যেকোনো অঙ্কের অর্থ জমা হিসেবে গ্রহণ ও আন্তব্যাংক ক্লিয়ারেন্সসহ সব ধরনের ব্যাংকিং কাজ করতে পারবে।
- ধান, পাটবীজ, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ, পরিবহন ও বিতরণ অব্যাহত থাকবে।
- কৃষি খামার এবং চাল গবেষণা কেন্দ্রের কাজ চালু থাকবে।
- বন্দর কর্তৃপক্ষের কাজ চলবে।
- সেনাবাহিনীর চলাচল অথবা জনসাধারণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন সামগ্রী খালাসের ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করা যাবে না।
- ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ইপিআইডিসি) সমস্ত কলকারখানায় কাজ চলবে এবং উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালাতে হবে।
- ঘূর্ণিঝড়দুর্গত এলাকায় বাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজসহ সব সাহায্য, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কাজ চলবে।
- পল্লি অঞ্চলে উন্নয়নকাজ অব্যাহত থাকবে।
- সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীর মজুরি ও বেতন পাওনা হলে তা পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য হিসাব নিরীক্ষণ অফিসে আংশিক কাজ চলবে।
- জেলখানার ওয়ার্ডে ও অফিসে কাজ চলবে।
- বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত শাখাগুলো চালু থাকবে।
উৎসঃ একাত্তরের দিনগুলি, প্রথম আলো রিপোর্ট ও বাংলাপিডিয়া।
রেফারেন্স মাত্র
অ্যাপে আরও ১ লক্ষ+ প্রশ্ন অনুশীলন করুন
বিনামূল্যে • ৪.৯★ রেটিং • ৫০K+ ডাউনলোড