নিত্য সমাস: - যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। - তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়। যেমন: - অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, - কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র, - অন্য গৃহ = গৃহান্তর, - তুমি আমি ও সে = আমরা, - দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই, - অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।
অন্যদিকে: বহুব্রীহি সমাস: - যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: - বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, - লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
কর্মধারয় সমাস: - যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। - শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। - কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
দ্বিগু সমাস: - সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। - দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন: - তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, - চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।