এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- কাব্যের কাহিনী রামায়ন থেকে গ্রহণ করা হলেও তা অনেকটা পরিবর্তিত আকারে নেওয়া হয়েছে।
- এই কাব্য নয় সর্গে রচিত। এতে তিন রাত দুই দিনের ঘটনা বর্ণিত আছে।
-----------------
- মেঘনাদবধ কাব্যের বিরাট পটভূমির মধ্যে নানা ধরনের চরিত্র এবং কাব্যের নানা রসের সমাবেশ ঘটেছে।
- বীররসাত্মক কাব্য রচনার উদ্দেশ্য নিয়ে মধুসূদন মেঘনাদবধ কাব্যে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কাব্যটির শুরুতে বীররসের কাহিনীর ইঙ্গিতও রয়েছে।
"সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর-চূড়ামণি
বীরবাহু, চলি যবে গেলা যমপুরে।"
এই স্বরস্বতী-বন্দনাতেই কবি বলেছেন -
গাইব, মা, বীররসে ভাসি,
মহাগীত; উরি, দাসে দেহ পদছায়া।
তবে, বীররসে কাব্যরচনার এই উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হয়ে ওঠে নি।
- বীরবাহু জননী চিত্রাঙ্গদার আর্তনাতে, অশোকবনে বন্দিনী সীতার অশ্রুবিসর্জনে, মেঘনাদপত্নী প্রমীলার চিতারোহণে, সর্বোপরি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুত্রহারা রাবণের হাহকারে করুণ রসেরই প্রাধান্য ঘটেছে।
- প্রথম সর্গে বেদনাকাতর রাবণের অনুভূতি শেষ সর্গে চরম হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রাণপ্রিয় পুত্র মেঘনাদের চিতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর হৃদয়ের হাহকার ব্যক্ত করেছেন:
"ছিল আশা, মেঘনাদ, মুদিব অন্তিমে
এ নয়নদ্বয় আমি তোমার সম্মুখে, -
সঁপি রাজ্যভার, পুত্র, তোমায় করিব
মহাযাত্রা! কিন্তু বিধি-বুঝিব কেমনে
তাঁর লীলা? ভাঁড়াইলা সে সুখ আমারে!"
- রাবণ চরিত্রের এই হাহাকারই কাব্যে প্রাধান্য পেয়েছে।
- আর তাই বলা যায়, কবি কাব্যের প্রথমে বীররসের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করুনরসই প্রাধান্য পেয়েছে।
উৎস: বাংলা সাহিতের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
রেফারেন্স মাত্র
অ্যাপে আরও ১ লক্ষ+ প্রশ্ন অনুশীলন করুন
বিনামূল্যে • ৪.৯★ রেটিং • ৫০K+ ডাউনলোড