♦কার্বন ডেটিং♦ জীবাশ্ম বা প্রাচীন জৈব পদার্থের বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির নাম কার্বন ডেটিং। একে রেডিওকার্বন ডেটিংও বলা হয়। ১৯৪০-এর দশকে আমেরিকান বিজ্ঞানী উইলার্ড লিব্বি এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ⊕কার্বন ডেটিং এর প্রক্রিয়া: • সমস্ত জীবন্ত বস্তুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে কার্বন থাকে, যার মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অংশ রেডিওকার্বন (কার্বন-১৪ বা C-14) নামে পরিচিত। C-14 হল একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ যা নাইট্রোজেন-১৪ (N-14) থেকে কসমিক রশ্মির প্রভাবে সৃষ্টি হয়।• জীবন্ত অবস্থায় সমস্ত জীব কার্বন গ্রহণ করে এবং রেডিওকার্বনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে। কিন্তু যখন প্রাণী বা উদ্ভিদ মারা যায়, তখন নতুন কার্বন গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায় এবং C-14 ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যায়, পরিণত হয় নাইট্রোজেনে। এই ক্ষয়ের হারটি নির্দিষ্ট, যা অর্ধায়ু (প্রায় ৫৭৩০ বছর) দ্বারা মাপা হয়।• গবেষকরা প্রাচীন নমুনা থেকে কার্বন সংগ্রহ করেন এবং তাতে অবশিষ্ট রেডিওকার্বনের পরিমাণ পরিমাপ করেন। অবশিষ্ট C-14 এবং তার অর্ধায়ু জেনে, বিজ্ঞানীরা হিসাব করতে পারেন কত সময় আগে সেই জীবটি মারা গিয়েছিল।⊕ব্যবহার:কার্বন ডেটিং প্রাচীন হাড়, কাঠ, চারকোল এবং অন্যান্য জৈব পদার্থের বয়স নির্ধারণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উৎস: National Institute of Standards and Technology (NIST) Website, Britannica.