⇒ গিরিশচন্দ্র ঘোষ: • বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম। যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন। এতে বাংলা নাটকের ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং তিনি সে সময়কার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হিসেবে গৌরবময় আসন অলঙ্কৃত করতে সক্ষম হন।
• গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু হিসেবে।
• গিরিশচন্দ্র ঘোষের কোন কোন নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।
তাঁর গৈরিশ ছন্দের নমুনা: যবে ধনু ধরি করে, ঘোর সিংহনাদে প্রবেশ করেছি রণে- যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর আদি চরাচর কে কবে হয়েছে স্থির? যদি যায় প্রাণ মাতঃ করগো কল্যাণ সেই দর্পে সেই শরাসন করে সেই রণক্ষেত্রে আনন্দ যথায় মম হইব ধরণীশায়ী অনন্ত শয্যায়।
গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।