অ্যালভিওলাসের গঠন: - ফুসফুসে স্কোয়ামাস এপিথেলিয় কোষে গঠিত ও কৈশিক-জালিকাসমৃদ্ধ প্রকোষ্ঠের মতো গ্যাসীয় বিনিময় তলকে অ্যালভিওলাস (বহুবচনে-অ্যালভিওলাই) বলে। - মানুষের ফুসফুসে প্রায় ৭০-৯০ বর্গমিটার আয়তনের তল জুড়ে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি)-এরও বেশি সংখ্যক অ্যালভিওলাই রয়েছে। - প্রত্যেক অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, মাত্র ০.১µm পুরু, এর বহির্দেশ ঘন কৈশিকজালিকা-সমৃদ্ধ। - কৈশিকনালিকাগুলো পালমোনারি ধমনি থেকে সৃষ্টি হয় পরে পুনর্মিলিত হয়ে পালমোনারি শিরা গঠন করে। - প্রাচীরটি আর্দ্র স্কোয়ামাস (আঁইশাকার) এপিথেলিয়াম নির্মিত। - এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুও রয়েছে। - শ্বসনের সময় সংকোচন-প্রসারণ সহজতর হয়।
- অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের কিছু বিশেষ কোষ প্রাচীরের অন্তঃতলে ডিটারজেন্ট (detergent)-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে, যে পদার্থকে সারফেকট্যান্ট (surfactant) বলে। - এ পদার্থ অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের তরল পদার্থের পৃষ্ঠটান (surface tension) কমিয়ে দেয়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুস কম পরিশ্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। - এ পদার্থ বাতাস ও অ্যালভিওলাস-প্রাচীর সংলগ্ন তরল পদার্থে O2 ও CO2-এর দ্রুত বিনিময়ে সাহায্য করে। - এ পদার্থ অ্যালভিওলাসে আগত জীবাণুও (ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে। - ২৩ সপ্তাহ বয়স্ক মানবভ্রূণে সর্বপ্রথম সারফেকট্যান্ট ক্ষরণ শুরু হয়। - এ কারণে ২৪ সপ্তাহের আগে মানবভ্রূণকে স্বাধীন অস্তিত্বের অধিকারী গণ্য করা হয় না। - অনেক দেশে তাই এ সময়কাল পর্যন্ত গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হয়।