গলন ও গলনাঙ্ক: - কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। - নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। - এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C, সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে।
বাস্পীভবন: - কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। - বাষ্পীভবন দু'ভাবে সংঘটিত হয়। যেমন- • স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন: - ভিজা কাপড় রোদে নেড়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে শুকিয়ে যায় এবং পাকা মেঝের উপর খানিকটা পানি পড়লে তাও কিছুক্ষণের মধ্যে শুকিয়ে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। আবার কেরোসিনের বোতলের মুখ খোলা রাখলে কেরসিন বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করতে হয় না। পরিবেশ থেকেই প্রয়োজনীয় তাপ সংগ্রহ করে তরল উপরিতল থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন বলা হয়।
• স্ফুটন: - তাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের দ্রুত বাষ্পীভবন ঘটানোর প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে। - যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের স্ফুটন সংঘটিত হয় তাকে ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। - এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C হয়।
ঘনীভবন: - তাপমাত্রা কমিয়ে কোনো বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থকে তার তরল অবস্থায় রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঘনীভবন। - কোনো বায়বীয় পদার্থের তাপ হ্রাস করে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় আসলে ঐ পদার্থের ঘনীভবন শুরু হয়। ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রাটি মূলত ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক। - তাপ হ্রাস করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে অপরিবর্তিত থেকে ঘনীভবন চলতে থাকে। ঘনীভবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তরলের বা বায়বীয় পদার্থের তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।