কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।- যথা:i) রবি মৌসুম:- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।- অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়।- কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়।- ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।- এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।ii) খরিপ মৌসুম:- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য।- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়।- যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।⇒ খরিফ-১ মৌসুম:- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে।- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।⇒ খরিফ-২ মৌসুম:- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।এছাড়া- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।- এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।- আধুনিক চাষাবাদ কলাকৌশলের মাধ্যমে বর্তমানে সারাবছর সবধরনের ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।