• সমীভবন : পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির একটির প্রভাবে অপরটি পরিবর্তিত হয়ে সমান রূপ ধারণ করলে, আকারে সমীভবন বা সমীকরণ বলে। কেউ কেউ সমীভবনকে ব্যঞ্জনসংগতিও বলে। কেননা সমীভবনে স্বরসংগতির মতো ব্যঞ্জনসংগতি যেমন- বদ্ + জাত = বজ্জাত, পাঁচ + সের = পাঁশসের, রাঁধ + না = রান্না, কাঁদ + না = কান্না ইত্যাদি । সমীভবন আবার তিন প্রকার। যথা—
• প্রগত সমীভবন: পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনি সাদৃশ্যরূপ ধারণ করলে তাকে প্রগত সমীভবন বলে। যেমন- যাঞ্চা > যাচ + না = যাচনা, চন্দন > চন্নন।
• প্রতিগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনি সাদৃশ্যরূপ ধারণ করলে তাকে প্রতিগত সমীভবন বলে। যেমন- রাধ+না = রান্না, কাঁদ + না = কান্না, বদ + জাত = বজ্জাত, তৎ + জন্য = তজ্জন্য ইত্যাদি।
• পারস্পরিক সমীভবন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ধ্বনি পরস্পরকে প্রভাবিত করে অন্য একটি ধ্বনিতে সাদৃশ্যরূপ প্রাপ্ত হলে তাকে পারস্পরিক সমীভবন বলে। যেমন- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল, উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস, উৎ + হার > উদ্ধার।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।