♦ অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে সমগ্র মানবজাতির রক্তকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। যথা-
- A, B, AB ও 0 গ্রুপ।
নিচে ABO রক্তগ্রুপের সম্পর্ক এবং রক্তদাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক দেখানো হলো।

• অ্যান্টিজেন লোহিত কণিকার প্লাজমা পর্দার বাইরে থাকে।
• অ্যান্টিবডি রক্তরসে থাকে।
• নির্দিষ্ট ব্যক্তির রক্তে যে অ্যান্টিজেন নেই, শুধু সেই অ্যান্টিবডি সেখানে পাওয়া যাবে।
• অর্থাৎ A রক্ত গ্রুপে A অ্যান্টিজেন, B রক্ত গ্রুপে B অ্যান্টিজেন এবং AB রক্ত গ্রুপে A ও B উভয় অ্যান্টিজেন থাকে। এদের কোনোটিতে একই ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে না। কিন্তু O রক্ত গ্রুপের রক্তে যেহেতু কোনো অ্যান্টিজেন নেই সেহেতু এর রক্তরসে anti A ও anti B উভয় অ্যান্টিবডি থাকে।
• 'A' রক্ত গ্রুপের দাতা 'A' ও 'AB' রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারবে। তেমনি B রক্ত গ্রুপের দাতা B ও AB রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারবে।
• AB রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে A, B, AB ও O অর্থাৎ এই চারটি গ্রুপের যে কোনো গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়। • এ কারণে AB গ্রুপের রক্ত বহনকারীকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।• একইভাবে O গ্রুপের রক্ত যে কেউ নিতে পারে, তার জন্য কোনো রক্ত পরীক্ষার দরকার হয় না। এজন্য গ্রুপের রক্ত বহনকারীকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়।
• উল্লেখ্য,
- রক্ত সঞ্চারণের সময় দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ যদি জানা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে ০ এবং Rh নেগেটিভ রক্ত সঞ্চায়ণ করাই শ্রেয়।
- রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে শিশুর পিতৃত্ব (কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয় কেবল কোনো নির্দিষ্ট রক্ত গ্রুপের ব্যক্তি) নির্ণয়ে জটিলতা সমাধান করা যায়।
- রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়।
উৎস: বিজ্ঞান (ইউনিট ৩), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ওপেন স্কুল।