রাজ কাঁকড়া - অতীতে বিলুপ্ত প্রাপ্ত জীব যাদের নিদর্শন কেবল জীবাশ্মে পাওয়া যায় তাদের সঙ্গে বর্তমানে জীবিত কোনো প্রজাতির জীবের সাদৃশ্য থাকলে ওই প্রজাতিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলে। - অশ্বক্ষুরের ন্যায় দেখতে উপবৃত্তাকার এই কাঁকড়াটি হলো Horseshoe Crab লিমুলাস। - প্রকৃত পক্ষে এরা কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড। - কিন্তু এটিকে কাঁকড়া বলা হলেও প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে এটির। - এরা লিমুলিডি গোত্রের অন্তর্গত সামুদ্রিক সন্ধিপদী। - প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে ’জীবন্ত জীবাশ্ম' বলা হয়। - কারণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে এরা উৎপত্তি লাভ করেছে। - এদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হওয়ায় অঙ্গসংস্থানিক পরিবর্তন ছাড়াই এরা পৃথিবীতে টিকে আছে। - ৪০ কোটি বছরেরও পুরানো রাজ কাঁকড়ার জীবাশ্ম যেমন Mesolimulus walchii (জার্মানীতে প্রাপ্ত) ও Austrolimus (অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত) বর্তমানকালের জীবিত প্রজাতিগুলোর প্রায় সমরূপ। - বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অংশে প্রাপ্ত রাজ কাঁকড়া আর্দশ বাদামী অথবা গাঢ় বাদামী যা এদের আবাসস্থলের উপর নির্ভরশীল। - পূর্ণ জোয়ারের সময় এরা প্রজনন করে এবং তখন এরা কক্সবাজার, সোনাদিয়া, মহেশখালি এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিকটে খাড়ি বা জলাভূমির বালুময় সৈকতে ফিরে আসে। - সুন্দরবনের চর এলাকা হচ্ছে রাজ কাঁকড়া এর প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র তবে অন্যান্য সকল উপকূলীয় এলাকায় উভয় প্রজাতিই প্রজনন করে।