এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং পরস্পর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য আইনের প্রয়োজন আছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে কোন কোন আইনকে স্বাধীনতার পরিপন্থীও মনে হয়। আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। প্রথম দলটি মনে করেন, আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। এরিস্টটল, মন্টেস্কু, উইলোবি, বার্কার, লক প্রমুখ মনীষী এই মতের সমর্থক। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী। হার্বার্ট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এই দলের অন্তর্গত।
আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে। স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন অনেক সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। দৃষ্টান্ত হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যমূলক আইনের কথা বলা যায়, যা ঐ দেশের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের অধিকার খর্ব করত। তাছাড়া মার্কসবাদীগণ মনে করেন, পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন তৈরি হয় মূলত সমাজের প্রভাবশালী শ্রেণির শাসন-শোষণ টিকিয়ে রাখার জন্য। অর্থাৎ পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন হল শোষণের হাতিয়ার।
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্কে অনেক বিরুদ্ধ যু্ক্তি থাকতে পারে। তারপরেও এটাই বাস্তবতা যে, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিপুল সংখ্যক নাগরিকের স্বাধীনতা নূন্যতম পর্যায়ে হলেও রক্ষা করার জন্য আইনের বিকল্প নেই। তাই উপসংহারে আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের মধ্যে বিরোধ নেই”।
রেফারেন্স মাত্র
অ্যাপে আরও ১ লক্ষ+ প্রশ্ন অনুশীলন করুন
বিনামূল্যে • ৪.৯★ রেটিং • ৫০K+ ডাউনলোড
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন
কর্তব্যের জন্য কর্তব্য – ধারাটির প্রবতক কে?
Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থের লেখক কে?
কোন নৈতিক মানদন্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে?
’শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন , আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর -এটি কে বলেছেন?
সুশাসনের মূল ভিত্তি কী?