• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) বইয়ের পৃষ্ঠা: ৬৬ ও ৬৮ অনুসারে, 'গায়ে-হলুদ' অলুক বহুব্রীহি ও মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি উভয় সমাস হিসেবে উল্লেখ আছে।
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: - বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন - - বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী, - হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। এমনি ভাবে - গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যদি।
• অলুক বহুব্রীহি: - যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। - অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়। যথা: - মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি, - গলায় গামছা যার= গলায় গামছা (লোকটি)। এরূপ - গায়ে-হলুদ, হাতেখড়ি, হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) বই অনুসারে, • পদলোপী বহুব্রীহি: - যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন - - চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি, - হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ব্যাকরণ বইয়ের নতুন সংস্করণের পদলোপী বহুব্রীহির সংজ্ঞা অনুযায়ী, 'গায়ে-হলুদ' পদলোপী বহুব্রীহি সমাস এবং পরীক্ষায় অপশনে পদলোপী বহুব্রীহি থাকলে এটাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর।
উল্লেখ্য, প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুধু বহুব্রীহি থাকায় বহুব্রীহি উত্তর গ্রহণ করা হলো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।