নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের কৃষির সর্ববৃহৎ উপখাত?
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: শস্য ও শাক-সবজি
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: শস্য ও শাক-সবজি
ভুল বা সঠিক হলে সাথে সাথেই ব্যাখ্যা সহ উত্তর দেখতে পারবেন।
কোনটিকে বাংলাদেশের ফুসফুস বলা যেতে পারে?
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অক্সিজেন যোগান দেয়া বন আমাজনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। তেমনি বাংলাদেশের ফুসফুস বলা যেতে পারে সুন্দরবনকে। কারণ এক গবেষণার তথ্য মতে, সুন্দরবন আমাদের ২৪টি ইকোসিস্টেম সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অক্সিজেন যোগান ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করা, উপকূলীয় এলাকা রক্ষা, সাইক্লোন-জলোচ্ছ্বাস থেকে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, অফুরন্ত জীবন-জীবিকার উৎস ইত্যাদি।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিষয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১০ মার্কের MCQ কুইজএই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের কৃষির উপখাতসমূহ:
বাংলাদেশের কৃষিখাত তিনটি প্রধান উপখাত নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো: (ক) শস্য ও শাক-সবজি, (খ) প্রাণিসম্পদ ও (গ) বনজ সম্পদ। কিন্তু সার্বিক কৃষি খাতের মধ্যে মৎস্য সম্পদকে একটি উপখাত হিসেবে গণ্য করা যায়।
(ক) শস্য ও শাক-সবজি (Crops and vegetables): এটি বাংলাদেশের কৃষির সর্ববৃহৎ উপখাত। এ খাতে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য শস্য যেমন ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ, বাদাম, পিয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি যেমন লাল শাক, পালং শাক, পটল, ঢেরস, করলা, লাউ, বেগুন, শসা, টমেটো, কপি ইত্যাদি উৎপাদিত হয়। তাছাড়া এ উপখাতে বিভিন্ন ধরনের অর্থকারী ফসল যেমন পাট, চা, আখ, তামাক, রেশম, তুলা, রবার ইত্যাদি উৎপাদিত হয়। দেশের লোকদের খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করা ছাড়াও এ উপখাতে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। বর্তমানে এদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের শতকরা ১২.২৭% ভাগ শস্য ও শাক-সবজি উপখাতের সৃষ্টি।
(খ) প্রাণিসম্পদ [Livestock): গৃহে পালিত নানাজাতীয় পশু-পাখি নিয়েই বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ উপখাত গঠিত। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর প্রভৃতি এদেশের প্রাণিসম্পদের অন্তর্ভুক্ত। প্রাণি সম্পদ থেকে প্রাপ্ত মাংস, দুধ, ডিম, ইত্যাদি মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করে। তাছাড়া চাষাবাদ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চামড়া ও চামড়া জাতীয় দ্রব্যাদি উৎপাদন ও রপ্তানিতে এ উপখাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
(গ) বনজ সম্পদ (Forest Resources): এটি আমাদের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত। বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডের শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ জুড়ে বন রয়েছে। বনে সুন্দরি, গড়ান, গেওয়া, কেওড়া, শাল, গর্জন, গামাড়ি, গোলপাতা প্রভৃতি গাছ জন্মে। এগুলো থেকে দেশের কাঠের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হয় এবং কয়েকটি শিল্পের কাঁচামালের যোগান আসে। জ্বালানি কাঠ, বাঁশ, বেত, মোম, মধু, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, ইত্যাদি এ উপখাত থেকে পাওয়া যায়।
(ঘ) মৎস্য সম্পদ (Fisheries): বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশ সরকার একে একটি পৃথক খাত হিসেবে গণ্য করেছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় এ খাতও কৃষিখাতের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও দেশের সামুদ্রিক মৎস্য ক্ষেত্রগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ আহরিত হয়। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে মৎস্য সম্পদের অবদান হলো ৩.৬৯ শতাংশ।
উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রেফারেন্স মাত্র
বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিষয়ের আরও প্রশ্ন