এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
• 'বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হল পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা — কাজী নজরুল ইসলাম।
• চরণটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'খেয়া- পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।
- এ কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
----------------
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত ইল আরব,
- খেয়াপাড়ের তরণী,
- কোরবানি ও
- মহররম।
-------------------------
খেয়া-পারের তরণী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।
যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!
-----------
---------------
‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
শিরে নত স্নেহ-আঁখি মঙ্গল দাত্রী,
গাও জোরে সারি-গান ও-পারের যাত্রী।
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার। (সংক্ষেপিত)
---------------------
---------------------
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংগীত জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন একজন উপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, সংগীতজ্ঞ এবং বিপ্লবী। নজরুলের সাহিত্যকর্মের মধ্যে তাঁর বিদ্রোহী মনোভাব, সমাজ সচেতনতা, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বক্তব্য এবং মানবিক মূল্যবোধের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। নিচে তাঁর জীবনী এবং সাহিত্যকর্মগুলো আরও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হলো:
জীবনী:
জন্ম: ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
ডাক নাম: ‘দুখু মিয়া’, কারণ তিনি ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন।
পদবি: বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত। তাঁর কবিতা এবং গান সামাজিক অনাচার, শোষণ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিল এক শক্তিশালী প্রতিবাদ।
সংগীতে খ্যাতি: আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত ছিলেন।
উপন্যাস:
বাঁধন-হারা: কাজী নজরুলের প্রথম উপন্যাস।
মৃত্যুক্ষুধা: এই উপন্যাসে নজরুল দারিদ্র্য, শোষণ এবং মানুষের ক্ষুধা নিয়ে কথা বলেছেন।
কুহেলিকা: রহস্যময়তা এবং সামাজিক সমস্যার ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি উপন্যাস।
প্রবন্ধগ্রন্থ:
রাজবন্দীর জবানবন্দি: কাজী নজরুলের বিখ্যাত প্রবন্ধ, যা তিনি জেলে বন্দী থাকাকালীন লিখেছিলেন। এই প্রবন্ধে বিদ্রোহ, প্রতিবাদ এবং শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর তীব্র অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
দুর্দিনের যাত্রী: নজরুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগ্রন্থ, যেখানে সমকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
যুগবাণী: নজরুলের সমাজ সচেতনতার আরেকটি প্রমাণ। এই প্রবন্ধে তিনি সমকালীন সামাজিক অবিচার, শোষণ ও শ্রেণী বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন।
রুদ্র মঙ্গল: একটি প্রবন্ধগ্রন্থ যেখানে নজরুল তাঁর সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কিত ভাবনা তুলে ধরেছেন।
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:
• চোখের চাতক,
• নজরুল গীতিকা,
• সুর সাকী,
• বনগীতি।
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর সাহিত্যে মানবতা, সাম্যবাদ, স্বাধীনতা এবং বিদ্রোহের মন্ত্র উচ্চারিত হয়েছে।
উৎস: খেয়া-পারের তরণী- কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর), বাংলাপিডিয়া।
রেফারেন্স মাত্র
অ্যাপে আরও ১ লক্ষ+ প্রশ্ন অনুশীলন করুন
বিনামূল্যে • ৪.৯★ রেটিং • ৫০K+ ডাউনলোড