মূল বিষয়বস্তুতে যান

'বেপরোয়া’ শব্দটি কোন ধরনের সমাস?

সঠিক উত্তর

নঞ বহুব্রীহি সমাস

সঠিক উত্তর: নঞ বহুব্রীহি সমাস

এবার দেখা যাক এই প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারেন কিনা।

ভুল বা সঠিক হলে সাথে সাথেই ব্যাখ্যা সহ উত্তর দেখতে পারবেন।

বাংলা ১ নম্বর

রুখের তেন্তলি কুমীরে খাই’- এর অর্থ কি?

বাংলা বিষয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১০ মার্কের MCQ কুইজ

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

বেপরোয়া’ শব্দটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাস।
--------------------
• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- গঠন: না-বাচক অব্যয় + বিশেষ্য পদ।

- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,
- বেতাজ = নেই তাজ (মুকুট) যার,
- নির্ভুল = নাই ভুল যার।
- বেপরোয়া = নেই পরোয়া (উদ্বেগ বা ভীতিহীন) যার।
---------------------------------
উল্লেখ্য,
- বহুব্রীহি সমাস ও প্রকারভেদ:
- বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস যা সমস্যমান পদগুলোর সরাসরি অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো নতুন পদ বা গুণ/বস্তুকে নির্দেশ করে।
- যেমন:
- নীলকণ্ঠ = নীল (বিষ) কণ্ঠ যার।

• প্রকারভেদ ও উদাহরণ:
১. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে।
- উদাহরণ: আয়ত লোচন যার → আয়তলোচনা।

২. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ এবং পরপদ দুটোই বিশেষ্য।
- উদাহরণ: বীণা পাণিতে যার → বীণাপাণি।

৩. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায়।
- উদাহরণ: সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার → সোনামুখী।

৪. নঞ্ বহুব্রীহি: না-বোধক অব্যয়ের সঙ্গে বিশেষ্য পদ।
- উদাহরণ: নেই জ্ঞান যার → অজ্ঞান।

৫. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: পূর্বপদে সংখ্যা এবং পরপদে বিশেষ্য থাকলে সমাসবদ্ধ পদটি একটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ্য নয়।
- উদাহরণ: দশ আনন (মুখ) যার → দশানন।

৬. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি: সমস্ত পদের শেষে আ, এ, ও প্রত্যয় থাকে।
- উদাহরণ: ঘরে ও বাইরে → ঘরমুখো

৭. ব্যতিহার বহুব্রীহি: কাজের পারস্পরিক বিনিময় বোঝায়।
- উদাহরণ: হাতে হাতে যে যুদ্ধ → হাতাহাতি।

৮. অলুক বহুব্রীহি: পূর্বপদের বিভক্তি সমস্তপদেও লোপ পায় না।
- উদাহরণ: মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
নিত্য সমাস:
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র।
- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ।
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি।

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু, ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে যদি কৃদন্ত পদ বা নামপদের সমাস হয় তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
- যেমন-
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।

• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ্ তৎপুরুষ সমাস হলো তৎপুরুষ সমাসের এক বিশেষ প্রকার, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: না, নেই, নাই, নয়) বসে এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত পরপদকে নির্দেশ করে।
- এই সমাসে সাধারণত ‘ন’ বা না-বাচক অব্যয় পরের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিপরীতার্থক অর্থ বা কোনো অভাব বোঝায়।
- উদাহরণ:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- ন জানা = অজানা।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

সকল অপশন

রেফারেন্স মাত্র

  1. নঞ বহুব্রীহি সমাস সঠিক
  2. নিত্য সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. নঞ তৎপুরুষ সমাস

প্রশ্ন তথ্য

বিষয়
বাংলা
শ্রেণী
শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন - প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ
মার্ক
1.00

বাংলা বিষয়ের আরও প্রশ্ন

  1. 1

    রুখের তেন্তলি কুমীরে খাই’- এর অর্থ কি?

  2. 2

    “আসমান” কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?

  3. 3

    জিজীবিষা শব্দটির অর্থ কি?

  4. 4

    “সপ্তকাণ্ড রামায়ন” বাগধারার অর্থ কি?

  5. 5

    “Attested” শব্দের বাংলা পরিভাষা কি?

মেধাবী অ্যাপ

৪.৯ · বিনামূল্যে
ইনস্টল