কৌলীন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- কৌলীন্য প্রথা যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। - এ আকাঙ্ক্ষার পরিচয় পাওয়া যায় রামায়ণএর (খ্রিস্টপূর্ব দু শতক থেকে দু খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) সময় থেকে। - কুলীন অর্থ হলো উত্তম পরিবার বা সম্ভ্রান্ত বংশজাত। - বল্লালসেন (আনু. ১১৬০-১১৭৮ খ্রি.) বাংলার সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা। - কুলজি গ্রন্থসমূহ থেকে জানা যায় যে, বিজয়সেনের পুত্র এবং উত্তরসূরি বল্লাসসেন বাংলায় সামাজিক সংস্কার, বিশেষ করে কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তনকারী হিসেবে পরিচিত। - বল্লালসেনের সময়ের দুটি লিপি-প্রমাণ (নৈহাটি তাম্রশাসন এবং সনোকার মূর্তিলিপি) এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে। - অদ্ভুতসাগর গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, পিতা বিজয়সেনের শাসনকালে বল্লালসেন মিথিলা জয় করেছিলেন। - কৌলীন্যপ্রথা প্রবর্তনের মাধ্যমে বল্লালসেন সামাজিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করেন। - সেনদের লিপি-প্রমাণ এবং কিংবদন্তি থেকে এটি প্রমাণিত যে, বল্লালসেন ছিলেন একজন পন্ডিত ও প্রসিদ্ধ লেখক। ১ - ১৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি দানসাগর রচনা করেন। - ১১৬৯ খ্রিস্টাব্দে অদ্ভুতসাগর লেখা শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেন নি। - বল্লালসেন প্রায় ১৮ বছর সাফল্যের সঙ্গে রাজত্ব করেন।
সূত্র: ৩৯ পৃষ্ঠা, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।