মরমি কবি হিসেবে হাসন রাজা: • হাসন রাজার মুখ্য পরিচয় একজন মরমি কবি হিসেবে। • তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন: ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য। • ’হাছন উদাস (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি সংকলিত হয়েছে।
---------------------------- হাসন রাজা ছিলেন এক জনপ্রিয় মরমি কবি ও সাধক, যিনি আধ্যাত্মিক এবং মানবিক অনুভূতিতে সমৃদ্ধ গান রচনা করে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী, এবং তিনি সুনামগঞ্জের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
জীবনী: • জন্ম:১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি, সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামে। • মৃত্যু: ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর। • পরিচিতি:তিনি আঞ্চলিক ভাষায় রচিত প্রায় এক হাজার গানের জন্য প্রসিদ্ধ। তার গানের মধ্যে সমাজ, ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, মানবিকতা, এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিবেদন গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। • গানের ভণিতা:হাসন রাজা তাঁর গানের ভণিতায় নিজেকে "পাগলা হাসন রাজা," "উদাসী," "দেওয়ানা," এবং "বাউলা" বলে অভিহিত করেছেন, যা তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতিফলন।
উল্লেখযোগ্য গান: • "লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার": এই গানে তাঁর দারিদ্র্যের প্রতীকী ব্যাখ্যা ও আধ্যাত্মিক জগতের প্রতি আকর্ষণ প্রতিফলিত হয়েছে। • "সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল": এই গানে প্রিয়জন বা স্রষ্টার প্রতি অগাধ প্রেম এবং তার দ্বারা নিজেকে ‘দেওয়ানা’ ভাবা হয়েছে।
হাসন রাজার গানে সাধারণ জীবনের নানা বোধ এবং আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ রয়েছে, যা তাঁকে বাংলার মরমি সংগীতের এক বিশিষ্ট রূপকার করে তুলেছে।