নীল বিদ্রোহ: - ইংরেজরা এই উপমহাদেশে এসেছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে। - ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয় কারণ এ সময় নীল ব্যবসা ছিল খুবই লাভজনক। - নীল চাষের জন্য কৃষকদের অগ্রিম অর্থ গ্রহণে ( দাদন ) বাধ্য করা হতো এবং পরে নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকের উপরে চরম অত্যাচার চালানো হতো। - ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো। - জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নীল চাষের খরচও বৃদ্ধি পায় ফলে চাষীরা নীল চাষের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের ওপরে নির্যাতন চালানো হতো। - নীল চাষীরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। - এ নীল বিদ্রোহের অত্যাচারের কথা দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকের কাহিনীর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। - হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার। - নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। - চাষীদের এ বিদ্রোহের কারণে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন’ গঠন করে নীল চাষকে কৃষকদের ‘ইচ্ছাধীন’ বলে ঘোষণা দেয় যার পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়। - পরবর্তীতে কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হওয়ায় ১৮৯২ সালে এদেশে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।