• বাগর্থ: - ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা। - মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে। - এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়। - শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে। ---------------------------- • অর্থের শ্রেণিবিভাগ: - অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের। -কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়। - এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।
• বাচ্যার্থ: - একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ। - অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। - 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ। - বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ। - এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, • লক্ষ্যার্থ: - একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে। - এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ। - যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। - এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে। - লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।