গ্রিন হাউজ গ্যাস ও গ্রিন হাউজ প্রভাব: - শীতপ্রধান দেশে তাপমাত্রা প্রায় 0°C এর কাছাকাছি থাকে, এত কম তাপমাত্রায় শাকসব্জি চাষ চলে না। ফলে কাঁচের ছাউনিযুক্ত ঘর তৈরি করে এর মধ্যে সবুজ (green) শাকসজির চাষ করা হয়।
- সবুজ উদ্ভিদের ঐ কাঁচের ঘরকে গ্রিন হাউজ বলা হয়।
- গ্রিন হাউজের মধ্যে তাপমাত্রা 38°C থেকে 39°C এর মধ্যে থাকে।
- এটি সম্ভব হয় দৃশ্যমান আলোর সব তরঙ্গ গ্রিন হাউজের কাঁচকে ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে।
- ভূপৃষ্ঠ দৃশ্যমান আলো তরঙ্গ (VIBGYOR) দ্বারা উত্তপ্ত হয়, কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি বিকিরণ করে।
- IR রশ্মি কাঁচ ভেদ করতে পারে না।
পৃথিবীর গ্রিন হাউজ: - বায়ুমণ্ডলের ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন হোমোস্ফিয়ারে N
2, O
2, O
3 অণুর সাথে CO
2 ও H
2O অণুগুলো থাকে। এ অঞ্চলকে পৃথিবীর গ্রিন হাউজ বলে।
- বায়ুমণ্ডলের CO
2 ও পানি বাষ্প (H
2O) পোলার অণু হওয়ায় এদের C=O বন্ধন ও O-H বন্ধন দ্বিপোলযুক্ত হয়।
- এছাড়া N
2O এর NO এর N-O বন্ধন, CFC এর C-CI, ও C-F বন্ধন পোলার হয়। এদের দ্বিপোল মোমেন্টে সহজে পরিবর্তন ঘটে, তখন এরা বিকিরিত IR রশ্মি শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।
- CO
2 ও H
2O দ্বারা শোষিত তাপ পুনরায় বিকিরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে, ফলে তাপমাত্রা আরো বেড়ে যায় যার কারণে গ্রিন হাউজে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- N
2, H
2, O
2 এর গ্রিন হাউজ প্রভাব নেই।
গ্রিন হাউজ গ্যাস: - যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলে।
-
CO2 গ্যাসকে প্রধান গ্রিন হাউজ গ্যাস বলা হয়।
- এছাড়া জলীয় বাষ্প, মিথেন (CH
4), নাইট্রাস অক্সাইড (N
2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O
3) গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে।
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO
2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO
2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।