পাট চাষের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: ২১-২৭ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর
সঠিক উত্তর: ২১-২৭ ডিগ্রি
ভুল বা সঠিক হলে সাথে সাথেই ব্যাখ্যা সহ উত্তর দেখতে পারবেন।
কোনটিকে বাংলাদেশের ফুসফুস বলা যেতে পারে?
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অক্সিজেন যোগান দেয়া বন আমাজনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। তেমনি বাংলাদেশের ফুসফুস বলা যেতে পারে সুন্দরবনকে। কারণ এক গবেষণার তথ্য মতে, সুন্দরবন আমাদের ২৪টি ইকোসিস্টেম সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অক্সিজেন যোগান ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করা, উপকূলীয় এলাকা রক্ষা, সাইক্লোন-জলোচ্ছ্বাস থেকে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, অফুরন্ত জীবন-জীবিকার উৎস ইত্যাদি।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিষয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১০ মার্কের MCQ কুইজএই প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
পাট চাষের নিয়ামকসমূহ: পাট চাষের নিয়ামকসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক, আর্থ-সামাজিক এবং প্রযুক্তিগত। নিম্নেএসব নিয়ামক বর্ণনা করা হলো:
ক. প্রাকৃতিক নিয়ামক
১. জলবায়ু : পাট চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু আবশ্যক। সাধারণত ২১০- ২৭০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ১৫০-২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। পাট চাষের জন্য পানির সান্নিধ্য একান্ত প্রয়োজন। এদেশের অনুকূল জলবায়ু পাট উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশে আসীন করেছে।
২. মৃত্তিকা: পাট চাষের জন্য দোআঁশ মৃত্তিকা প্রয়োজন। নদীবাহিত পলিযুক্ত মৃত্তিকা পাট চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ ধরনের মৃত্তিকা স্বভাবতই অত্যন্ত উর্বর। এছাড়া বেলে-দোআঁশ মৃত্তিকাতেও পাট ভালো জন্মে। বাংলাদেশের নদীবিধৌত পলিমাটিতে উৎকৃষ্টমানের পাট জন্মে।
খ. আর্থ-সামাজিক নিয়ামক
১. শ্রমিক : বাংলাদেশে শ্রমিক সস্তা এবং সুলভ হওয়ায় পাট চাষের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাট চাষের
জন্য জমি প্রস্তুতকরণ, বীজ বপন, পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেয়া, ধোঁয়া এবং শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক আবশ্যক। এছাড়া পাটকলে প্রচুর শ্রমিক প্রয়োজন হয়।
২. মূলধন : পাট চাষের জমি প্রস্তুতকরণ, বীজ সংগ্রহ, সার ও কীটনাশক ক্রয়, শ্রমিকের মজুরি প্রভৃতির জন্য মূলধনের প্রয়োজন হয়। তবে পাট চাষে স্বল্প খরচ হওয়ায় খুব বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয় না।
৩. বাজার: পাটজাত পণ্যের পর্যাপ্ত বাজার থাকতে হয়। এদেশে তৈরি পাটের বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্যসামগ্রীর দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় অধিকাংশ কৃষকই পাট চাষ করে থাকে।
৪. পরিবহন ও যোগাযোগ: পাট প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য সুলভ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আবশ্যক।
৫. কারখানা: পাটজাত পণ্য তৈরির জন্য পর্যাপ্ত কারখানা আবশ্যক যা এই শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্প খরচে মানসম্পন্ন পণ্য নিশ্চিতের জন্য আধুনিক উন্নতমানের কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৬. বীজ, সার ও কীটনাশক: ভালোমানের পাট চাষের জন্য সময়মতো উন্নত বীজ ও পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। এছাড়া রোগ-বালাই দমনের জন্য প্রয়োজনীয় গুণগতমানসম্পন্ন কীটনাশক আবশ্যক।
গ. প্রযুক্তিগত নিয়ামক: পাট চাষ আধুনিকীকরণের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। পাট চাষের জমি প্রস্তুতে ট্রাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা (বামিস) এর মতে, পাট চাষের জন্য তাপমাত্রা: ১৮-৩৫° সেন্ট্রিগ্রেড; আপেক্ষিক আর্দ্রতা: ৬০-৯০% ও অংকুরোদগমের জন্য ১৫-২৫° সেন্ট্রিগ্রেড। (লিঙ্ক)
উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রেফারেন্স মাত্র
বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিষয়ের আরও প্রশ্ন