ই-গভর্ন্যান্স:
- সকল প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সেবা-প্রদান, 'ব্যাক-অফিস' কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটিং এবং আইসিটির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে, সঠিকভাবে এবং সহজে সকল ধরনের কর্মকাণ্ড বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায় যে, শাসন ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি কার্য-প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্নেন্স।
- আর সে কারণেই ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্সও বলা হয়ে থাকে।
- কোনো একটি দেশে সুপ্রশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
- আর ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
- ফলে নাগরিক-হয়রানি এবং সেবা-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানির অবসান ঘটে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇒ বাংলাদেশ সরকারের ই-গভর্নেন্সের বিশেষ কতকগুলো উদ্যোগ এখানে তুলো ধরা হলো:
• ই-নথি:
- ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নথি নিষ্পত্তি এবং অনলাইন অফিস ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ই-নথি সেবা চালু করেছে।
• সরকারি সার্টিফাইং অথরিটি প্রতিষ্ঠা:
- দেশে ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রবর্তন ও Public Key Infrastructure (PKI)-এর উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ প্রতিষ্ঠা করেছে।
• জাতীয় পরিচয়পত্রকে ডিজিটালকরণ:
- রাষ্ট্রের হাতে সংরক্ষিত নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছে।
• সরকারি কর্মচারীদের তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমকে ডিজিটালাইজেশন:
- সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০১৬ সালে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে চ্যাটিং, অনলাইন অডিও ও ভিডিও কল, ফাইল শেয়ারের ইত্যাদি সুবিধা সহকারে আলাপন নামে একটি ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ চালু করেন।
• ডিসি ও ডিআরএস:
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইনফো-সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে "কনটেইনার ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার" স্থাপন করেছে।
- এর ফলে কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডাটা-সেন্টার যদি নষ্ট/ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই রিকভারি সেন্টার সাহায্য করতে পারে।
• ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক চালুকরণ:
- জাতীয় পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণকে নানান তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে মোবাইল ফোনভিত্তিক (৯৯৯) হেল্পডেস্ক চালু করে যার মাধ্যমে নাগরিক বিনামূল্যে ফোন করে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার স্টেশন নম্বর, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্যসহ জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত নানান তথ্য জানতে পারবেন।
• বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধকরণ:
- বাংলা ভাষাকে সহজীকরণ, বাংলা লিখিত নমুনা (কর্পাস) ও বাংলা ফন্টের মান উন্নয়ন, এবং বিশ্বমানের বাংলা কম্পিউটিং চালু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে "গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ" নামের এক প্রকল্প চালু করে।
• ডিজিটাল জোন গড়ে তোলা:
- বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালীকে একটি "ডিজিটাল আইল্যান্ড" হিসেবে গড়ে তুলবার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে "কনভার্টিং মহেশখালী ইনটু ডিজিটাল আইল্যান্ড" নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয়।
• ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প:
- বিচারিক ব্যবস্থার সকল যোগাযোগ, ফাইলিং, সাক্ষ্য-প্রমাণ রেকর্ডিং ও সংরক্ষণ, মামলার নথি সংরক্ষণ, আদেশ-রায় প্রেরণ ও প্রদর্শন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে ই- জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নেয়।
• ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার:
- সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নানান প্রযুক্তিকে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম জাতীয় ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
• অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালুকরণ:
- সরকারি দপ্তর এবং আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার প্রতিশ্রুত সেবা, সেবা প্রদান পদ্ধতি এবং সেবা অথবা পণ্যের মান সম্পর্কে যদি জনগণের কোন অসন্তোষ বা মতামত থাকে তবে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে এই অনলাইন ভিত্তিক অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করে।
উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।