বখতিয়ার খলজির জীবন সংগ্রাম ও উত্থান: - ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি তের শতকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের একাংশে (প্রধানত নদীয়ায়) মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। - ইসলাম ধর্মের মোড়কে বাংলায় মুসলিম সভ্যতার আগমন এ দেশের ঐতিহ্যবাহী সমাজ, সংস্কৃতি তথা সামগ্রিক জীবনধারায় গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করে। - বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন। - প্রথমে তিনি গজনিতে উপস্থিত হয়ে শিহাবউদ্দীন ঘুরীর অধীনে সৈন্য বিভাগে চাকুরি প্রার্থী হন কিন্তু সেখানে বিফল হয়ে তিনি দিল্লিতে চলে যান এবং সেখানকার শাসনকর্তা কুতবউদ্দীন আইবেকের কাছে চাকুরি প্রার্থী হন। - কিন্তু কুতবউদ্দীন আইবেকও তাঁর কদাকার চেহারার জন্য তাঁকে সৈন্যবিভাগে চাকুরি দিলেন না। - অতঃপর বখতিয়ার বদাউনে গেলে খানকার শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দীন তাঁকে নগদ বেতনে একটি ছোট চাকুরি দেন। - তবে অল্প বেতনের এ ছোট চাকুরিতে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তাই তিনি চলে গেলেন অযোধ্যায়। - অযোধ্যার শাসনকর্তা মালিক হুসামউদ্দীন বখতিয়ার খলজিকে সৈন্যবাহিনীতে ভর্তি করেন এবং তাঁকে বিউলী ও ভাগওয়াত নামে দুটি পরগনার জায়গির প্রদান করে উত্তর প্রদেশের মির্জাপুর জেলায় পাঠিয়ে দেন। - মির্জাপুরে জায়গির প্রাপ্তির ফলে বখতিয়ার খলজির জীবনের মোড় ঘুরে যায়। কারণ, এ অঞ্চল তাঁর শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠে।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।