তুলা:
- বস্ত্র শিল্পের মূল ও প্রধান উপাদান তুলা।
- তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল এবং আন্তর্জাতিক শিল্প ফসল, যা বিশ্বব্যাপী ‘সাদা সোনা’ হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি শিল্প বস্ত্রশিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলা।
⇒ বাংলাদেশে মূলত সমভূমি জাতের এবং সীমিত আকারে পাহাড়ী জাতের তুলার চাষ হয়ে থাকে। প্রধানত যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বন্যামুক্ত সমভূমিতে এবং বন্যামুক্ত চরাঞ্চলে তুলা চাষ হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে পাহাড়ি অঞ্চলের সমতল ভূমিতেও সমভূমির জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। যেহেতু তুলা একটি খরা ও লবন সহনশীল ফসল, তাই কম বৃষ্টি প্রবণ রাজশাহী ও রংপুরের বরেন্দ্র অঞ্চলে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমভূমি অঞ্চলে তুলাচাষ নির্ভরই আমাদের বস্ত্র শিল্প।
⇒ তুলা থেকে আঁশ ছাড়াও ভোজ্য তেল, খৈল, জ্বালানি উপজাত হিসাবে পাওয়া যায়।
- খৈল গবাদি পশু ও মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- তুলা উৎপাদন, জিনিং, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, ভোজ্য তেল এবং সাবান শিল্প ইত্যাদির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ লোকের জীবিকা নির্বাহ করে।
- তুলা বিশ্বের অন্যতম টেক্সটাইল তন্ত্র এবং তুলা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
- বর্তমানে বস্ত্র এবং গার্মেন্টস খাত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ বিদেশে চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই চিংড়িকে ‘সাদা সোনা’ বা ‘হোয়াইট গোল্ড’ বলা হয়।
উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।