ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: - ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। - কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে। - বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
⇒ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়ানোর জন্য বাংলাদেশে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিল। - ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এ ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করেন। - বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে খন্দকার মোশতাক হন দেশের রাষ্ট্রপতি। - খন্দকার মোশতাক আহমেদ কর্তৃক ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি অধ্যাদেশের আকারে এ আইনটি প্রণীত হয়; যা ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ নম্বর ৫০ নামে অভিহিত ছিল। - ১৯৭৯ সালে সংসদ কর্তৃক ওই ইনডেমনিটি অনুমোদন করা হয়। - ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর পর সংশোধিত আইনে এ আইনটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, - পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। - ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
এছাড়াও, • প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: - ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। - রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।
• দ্বিতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: - ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ - ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন, অধ্যাদেশ,বিধি-নির্দেশ ইত্যাদিকে ও বৈধতাদানের উদ্দেশ্য ২য় ইনডেমিনিটি বিলটি' ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।
• তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: - ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।