• সমীভবন: উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়া, কিংবা একই রকম হওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় সমীভবন।
সমীভবন তিন প্রকার। যথা: - পরাগত সমীভবন, - প্রগত সমীভবন ও - অন্যোন্য সমীভবন।
• পরাগত সমীভবন: সমীভবন ঘটিত পরিবর্তনটি যদি প্রথম ধ্বনির ক্ষেত্রে ঘটে এবং প্রথম ধ্বনি পরের ধ্বনির মতো হয়, তখন তা পরাগত সমীভবন হয়। যেমন: - গল্প > গপ্প; - তৎ + জন্য > তজ্জন্য; - তৎ + হিত > তদ্ধিত; - উৎ + মুখ >উন্মুখ - বদ্ + জাত > বজ্জাত ইত্যাদি।
------------- • ঘোষীভবন: অঘোষ ধ্বনি যখন ঘোষবৎ উচ্চচারিত হয় তখন তাকে বলে ঘোষীভবন। যেমন: - শাক > শাগ, - কাক > কাগ ইত্যাদি।
• স্বরসঙ্গতি: একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন: - দেশি > দিশি, - বিলাতি > বিলিতি, - মুলা > মুলো ইত্যাদি।
• ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন: - কবাট > কপাট, - ধােবা > ধােপা, - ধাইমা > দাইমা, - লেবু > নেবু ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।